পাবনা জেলা জাসাসের আহ্বায়ক এবং আলোকচিত্রী খালেদ হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির (বিএনপি) স্থানীয় নেতারা। আজ সোমবার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলো উত্থাপন করা হয়। একই সাথে, প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বরাবর খালেদ হোসেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও দাখিল করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ‘খালেদ হোসেন পরাগের (ফটোগ্রাফার) ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি ও বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অসদাচরণের বিরুদ্ধে’ বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। বিএনপি নেতারা সাংবাদিকদের কাছে লিখিত অভিযোগের কপি সরবরাহ করেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, পাবনা জেলা জাসাসের আহ্বায়কের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগটি গত ৩০ আগস্ট পাঠানো হয়েছিল।

লিখিত অভিযোগের বিবরণ

বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাসাস। পাবনা জেলা জাসাসের আহ্বায়কের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানো লিখিত অভিযোগে ‘বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘পাবনা জেলা জাসাস আহ্বায়ক খালেদ হোসেন পরাগ কর্তৃক জনমনে ভয়ভীতি, আতঙ্ক সৃষ্টি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং দলীয় নেতা–কর্মীদের সাথে অসদাচরণ করা প্রসঙ্গে’। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে যে, খালেদ হোসেন ফেসবুকের মাধ্যমে পাবনার কতিপয় ব্যবসায়ীদের হুমকি দিচ্ছেন। এছাড়া, আইডির মাধ্যমে ফেসবুকে তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রচারিত হচ্ছে। এসব অভিযোগের কারণে প্রতিনিয়ত জনগণের কাছে তাঁদের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

লিখিত অভিযোগে পাবনা জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা আরও উল্লেখ করেন যে, এসব বিষয়ে খালেদ হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি উত্তেজিত হয়ে অসদাচরণ করেন। তাঁরা চান না যে, ব্যক্তিবিশেষের কৃতকর্মের জন্য জনগণের কাছে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হোক। একই সঙ্গে, তাঁরা খালেদ হোসেনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর জোর দাবি জানান।

এই লিখিত অভিযোগে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান, যুগ্ম আহবায়ক আবদুস সামাদ খান, নূর মোহাম্মদ ও আবু ওবায়দা শেখ তুহিন, সদস্যসচিব মাসুদ খন্দকার এবং সদস্য মাহমুদুন্নবী ও মোছাব্বির হোসেনের স্বাক্ষর রয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার খালেদ হোসেনের

অন্যদিকে, খালেদ হোসেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ফটোগ্রাফার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আনা অভিযোগগুলো তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। গতকাল বিকেলে মুঠোফোনে তিনি জানান, “একজন চিহ্নিত অসাধু ঠিকাদারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় কিছু বিএনপি নেতা আমার নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারছে না, কোথায় আমি জমি দখল করছি, কার কাছে চাঁদা চাইছি, কার কাছে ক্ষমতার অপব্যবহার করছি। এটা কোনো দিন বলতেও পারবে না।”

সংবাদ সম্মেলনের পরিস্থিতি

উল্লেখ্য, আজকের সংবাদ সম্মেলনে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব উপস্থিত ছিলেন না। সংবাদ সম্মেলনে কেবল জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নূর মোহাম্মদ বক্তব্য রাখেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পাবনা জেলা বিএনপির মধ্যে সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলা বিদ্যমান রয়েছে এবং তাঁরা এই শৃঙ্খলা কোনোভাবেই নষ্ট হতে দিতে চান না।