স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন যে, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে পুলিশ বাহিনীতে দলীয় ভিত্তিতে নিয়োগ সংক্রান্ত তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই তদন্তে কয়েকটি জেলায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পুলিশে দলীয় নিয়োগ তদন্ত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই তথ্য দেন। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে কয়েকটি জেলায় হাজার হাজার পুলিশ কনস্টেবল, সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) এবং অন্যান্য পদে লোকবল নিয়োগ করা হয়েছিল। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট জেলার বাসিন্দা না হয়েও অনেকে জেলা কোটার সুবিধা নিতে তাদের স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর এবং কিশোরগঞ্জসহ এমন চার-পাঁচটি জেলা চিহ্নিত করা হয়েছে যেখানে এই ধরনের অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর এসব তথ্য বিস্তারিতভাবে জানানো হবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অস্ত্র উদ্ধার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সংঘটিত গুরুতর অপরাধের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং ২৪ ঘণ্টা, ৪৮ ঘণ্টা বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৭ ঘণ্টার মধ্যেই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আলোচিত অপরাধের পাশাপাশি কম আলোচিত ঘটনাগুলোতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নিয়মিত অভিযান চলছে এবং সব বাহিনী সম্মিলিতভাবে এই তৎপরতা চালাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, লুট করা অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হবে। পুলিশের জনবল বৃদ্ধি ও বিরোধী দলের অভিযোগ রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশের জনবল বাড়াতে সরকার নতুন করে ৪ হাজার নিরস্ত্র এসআই, ৪০০ সার্জেন্ট এবং ১ লাখ কনস্টেবলের পদ সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছে। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসনাত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি বিভিন্ন অপরাধের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানতে চান যে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে কিনা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পেরেছেন নাকি ব্যর্থ হয়েছেন। সালাহউদ্দিন আহমদ হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এটা প্রশ্ন হলো, নাকি পল্টনের বক্তৃতা হলো বুঝতে পারিনি।’ তিনি হাসনাতের দেওয়া অপরাধের পরিসংখ্যানের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কোন খাতে কত হত্যা হয়েছে, জখম হয়েছে ইত্যাদি যে ডেটা দিলেন, সেই ডেটাটা কিসের ভিত্তিতে দিলেন, কী পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দিলেন, সে স্ট্যাটিস্টিকসটা কি আমি জানি না।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কি হয়নি, সেটি তো দৃশ্যমান। তিনি বিরোধী দলকে আহ্বান জানান, যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে তা সংসদে তুলে ধরতে। তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট ঘটনা বিরোধী দল বললে তিনি ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিতে পারবেন। অপরাধের পরিসংখ্যানিক তুলনা আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট এবং ২০২৬ সালের একই সময়ের চিত্রের তুলনা সংসদে তুলে ধরেন। তিনি জানান, মব বা সংঘবদ্ধ জনতার সহিংসতার ঘটনা ৮৯ থেকে কমে ৫৬ হয়েছে। সংখ্যালঘুদের ঘিরে ঘটনার সংখ্যা ২০২৫ সালে ছিল ৯৯৯। চলতি বছরের একই সময়ে তা ১৬৩টিতে নেমে এসেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই উন্নতিকে ‘বৈপ্লবিক উন্নতি না বললেও দৃশ্যমান এবং জনপ্রত্যাশিত উন্নতি’ বলে অভিহিত করেন।