বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনের বিস্তৃত কর্মসূচি ঘোষণা
নয়াপল্টনে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে যে, আগামী ১ সেপ্টেম্বর দেশের প্রধান অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি তাদের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অত্যন্ত শুভ ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করতে যাচ্ছে। এই ঐতিহাসিক মাইলফলক ও গৌরবময় দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যে দলটির পক্ষ থেকে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে টানা পাঁচ দিনব্যাপী নানাবিধ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির বিস্তারিত রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা যৌথভাবে সাংবাদকদের সামনে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা ও ঘোষণা দেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন, শুভ সূচনা ও আলোচনা সভার বিস্তারিত কর্মসূচি
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল সূচনা দিনে অর্থাৎ ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯:০০ ঘটিকায় শের-ই-বাংলা নগরে অবস্থিত দলের প্রতিষ্ঠাতা তথা সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে অসীম শ্রদ্ধা ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। এই শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বে উপস্থিত থাকবেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও লাখো কর্মী। একই দিনে একটি বিশেষ বিস্তারিত আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে দেশের সার্বিক অবস্থা ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য রাখবেন।
পাঁচ দিনের নির্ধারিত কর্মসূচির বাইরেও গোটা সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে পরিবেশ রক্ষা এবং সামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে আরও দুটি বিশেষ কর্মসূচি পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় যে, একটি উন্মুক্ত জলাশয়ে অত্যন্ত যত্ন সহকারে মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর পাশাপাশি দেশব্যাপী ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
দলীয় প্রস্তুতি, হাইকমান্ডের পরামর্শ ও ব্যাপক জনসংযোগ
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচির বাইরেও সেপ্টেম্বর মাসে অতিরিক্ত কিছু আনুষঙ্গিক ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি যুক্ত করা হতে পারে। এসব নতুন কার্যক্রমের প্রাথমিক খসড়া ইতিপূর্বে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সাথে বিশদ পরামর্শ করা হবে। দলীয় হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরপরই সেসব কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে গোটা দেশের জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে।
এই প্রাক-প্রস্তুতিমূলক যৌথ সভায় দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় বহু জ্যেষ্ঠ নেতা, ঢাকা সিটির প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন বিষয়ক মন্ত্রী ও অধস্তন কর্মীবৃন্দ সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় যে, এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত সর্বস্তরে ব্যাপক জনসংযোগ গড়ে তোলা হবে। সব মিলিয়ে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে দেশজুড়ে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #বিএনপি #প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী #সংবাদ