বিএনপি কর্মী মকবুল হোসেন হত্যা মামলায় ঢাকা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এবং সোলায়মান সেলিমকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা এই হত্যা মামলায় তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। এই আদেশের ফলে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো।
সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আদালতকে মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে আদালতের এই পদক্ষেপ জরুরি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপপরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন আদালতে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন পেশ করেন। তাঁর আবেদনে বলা হয়, মকবুল হোসেন হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এবং সোলায়মান সেলিমকে গ্রেপ্তার দেখানো অপরিহার্য। তিনি যুক্তি দেন যে, এই দুই আসামিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার প্রদর্শন না করলে তদন্তের কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনটি পর্যালোচনা করেন। এরপর আদালত তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন এবং তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এই আদেশ মামলার আইনি প্রক্রিয়ায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) অভিযান পরিচালনা করে। সে সময় বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে কার্যালয়ের আশপাশে নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়েছিলেন। এই পরিস্থিতিতে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মকবুল হোসেন নামের একজন বিএনপি কর্মী নিহত হন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ২৫৬ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
এই হত্যা মামলার দুই আসামি, সাবেক সংসদ সদস্য সোলায়মান সেলিম এবং মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ভিন্ন ভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। ২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে পুলিশ সোলায়মান সেলিমকে গ্রেপ্তার করে। এর কিছুদিন পর, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের গ্রেপ্তারের পর থেকেই এই মামলার অগ্রগতি নিয়ে জনমনে আগ্রহ তৈরি হয়। আদালতের আজকের এই আদেশ মকবুল হোসেন হত্যা মামলার আইনি প্রক্রিয়াকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে মকবুল হোসেন হত্যা মামলার তদন্তে নতুন গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে এবং তদন্তের মাধ্যমে এই ঘটনার প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।