জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে চলমান বিরোধের জেরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) এক নেতা ছুরিকাহত হয়েছেন। হারুনুর রশিদ (৫৫) নামের এই নেতাকে গত বৃহস্পতিবার রাতে পথরোধ করে মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হয়। তিনি বর্তমানে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

আহত হারুনুর রশিদ অভিযোগ করেছেন যে, রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানসহ কয়েকজন তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরিকাঘাত করেছেন। তবে প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এই ঘটনাটি একটি ‘সাজানো নাটক’ এবং এর মাধ্যমে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

হামলার বিবরণ ও আহত ব্যক্তির অভিযোগ

গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আক্কেলপুরের রোয়াইড়–রাজকান্দা সড়কের রাজকান্দা মোড়ে হারুনুর রশিদকে পথরোধ করে মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হয়। আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসক সুমন হোসেন জানিয়েছেন, হারুনুর রশিদের বাঁ হাতে লম্বা জখম ও মাথার নিচে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে এই আঘাত করা হয়ে থাকতে পারে। হারুনুর রশিদ উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।

হারুনুর রশিদ তাঁর অভিযোগে বলেছেন, প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান, তাঁর বড় ভাই দারাজ উদ্দিনসহ ছয় থেকে সাতজন ব্যক্তি তাঁকে পথরোধ করে হামলা চালান। তাঁর দাবি, হামলাকারীরা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরিকাঘাত করে। এই ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করবেন বলেও জানিয়েছেন।

প্রধান শিক্ষকের পাল্টা অভিযোগ ও পূর্বের বিরোধ

অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান তাঁর বিরুদ্ধে আনা হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে পূর্বের বিরোধের জেরে গত ২১ জুন হারুনুর রশিদ তাঁকে জুতাপেটা করেছিলেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আদালতে একটি মামলাও দায়ের করেছেন। আজাদুর রহমান আরও অভিযোগ করেন যে, হারুনুর রশিদ তাঁকে মামলা তুলে নিতে চাপ ও চাকরি কেড়ে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন। এতে ব্যর্থ হয়ে এখন হারুনুর রশিদ হামলা ও ছুরিকাঘাতের ‘সাজানো নাটক’ করে তাঁদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন বলে প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন।

থানা–পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নির্বাচনে দুই পুরুষ ও দুই নারী সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হন। তবে প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনের পর হারুনুর রশিদ নির্বাচিত সদস্যদের তালিকা পরিবর্তন করে তাঁর পছন্দের ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এই বিষয় নিয়েই মূলত বিরোধের সূত্রপাত।

এই বিরোধের জেরে গত ২১ জুন বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে হারুনুর রশিদ ও আজাদুর রহমানের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানের অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সময় হারুনুর রশিদ জুতা খুলে তাঁকে আঘাত করেন। এই ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং হারুনুর রশিদ, শাহনেওয়াজ, আতিকুজ্জামান মুন ও আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও পুলিশের বক্তব্য

হারুনুর রশিদের ওপর হামলার ঘটনায় আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ ইফতেখার আহাম্মেদ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন,

এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার সকালে রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর ইসলাম থানায় এসে তাঁদের অবহিত করেছেন যে, হারুনুর রশিদ এই বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করবেন। ওসি আরও বলেন, অভিযোগ পেলে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।