কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া তার বক্তব্যে সৃষ্ট ভুল-বোঝাবুঝির জন্য গভীর দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তার পূর্ববর্তী মন্তব্যের জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় যে অসন্তোষ ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এবং কিছু তথ্যগত ত্রুটির কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সকলের অধিকার নিশ্চিত করার আদর্শে তার অবিচল বিশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জনগণের কাছে তার বক্তব্য পরিষ্কার করেছেন।

সংসদে দেওয়া তার বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘গান-বাজনা নিষিদ্ধ’ সংক্রান্ত একটি মন্তব্যের দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় মানুষের ওপর চাপানোকে তিনি একটি ভুল পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ জোর দিয়ে বলেন যে, কনসার্ট বন্ধের মূল কারণ ছিল উচ্চ শব্দ এবং এর ফলে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ, কোনোভাবেই সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন যে, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি, বরং জনস্বার্থে এবং পরিবেশগত কারণে উচ্চ শব্দ নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দিষ্ট কিছু কনসার্ট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এই ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে তিনি তার পূর্ববর্তী বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দূর করার চেষ্টা করেন।

এছাড়াও, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনুষ্ঠিতব্য নৌকাবাইচ অনুষ্ঠানের স্থান সংক্রান্ত তথ্যে একটি ত্রুটি ছিল বলেও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ অকপটে স্বীকার করেন। তার আগের বক্তব্যে এই তথ্যগত ত্রুটি থাকার কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে যে ভুল বোঝাবুঝি এবং অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি অনুতপ্ত। এই তথ্যগত ত্রুটির কারণে সৃষ্ট জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য পুনর্বিবেচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় স্পষ্টীকরণ প্রদান করেন। তিনি বলেন যে, সঠিক তথ্য উপস্থাপন করা তার দায়িত্ব এবং এই ক্ষেত্রে যে ত্রুটি হয়েছে, তার জন্য তিনি দুঃখিত।

সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর পূর্ববর্তী বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই বিক্ষোভের কারণ ছিল তার বক্তব্যের কিছু অংশ যা স্থানীয় জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছিল এবং তাদের মধ্যে ভুল বার্তা দিয়েছিল। এই বিক্ষোভের বিষয়টি আমলে নিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং জনগণের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তিনি স্বীকার করেন যে, তার বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছিল এবং তিনি এর জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি সকলের অধিকার নিশ্চিত করার আদর্শে গভীরভাবে বিশ্বাসী। তার মতে, প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকা উচিত এবং কোনো বক্তব্য বা পদক্ষেপ যেন কোনোভাবেই কারো অধিকার খর্ব না করে। এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই তিনি তার পূর্ববর্তী বক্তব্যের ভুল বোঝাবুঝি নিরসনের চেষ্টা করেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকার অঙ্গীকার করেন। তার এই দুঃখপ্রকাশ এবং স্পষ্টীকরণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জনগণের মধ্যে সৃষ্ট অসন্তোষ প্রশমিত করতে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ তার বক্তব্যের দায়বদ্ধতা স্বীকার করেছেন এবং জনগণের প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধ ও সংবেদনশীলতা প্রদর্শন করেছেন। তিনি আশা করেন যে, তার এই বিস্তারিত স্পষ্টীকরণের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা অসন্তোষ থাকবে না। তিনি আরও বলেন যে, তিনি সবসময় জনগণের কল্যাণে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।