রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল নেতা ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেণ
রাজশাহী নগরীর কাজলা এলাকার মিজানের মোড় সংলগ্ন একটি দোকান থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল-এর এক শীর্ষস্থানীয় নেতাকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ আটক করেছে স্থানীয় মতিহার থানা পুলিশ। আটককৃত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম হাসিব। শনিবার নিয়মিত টহল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা অভিযান পরিচালনাকালে পুলিশ তার কাছ থেকে সাতটি নিষিদ্ধ ট্যােপন্টাদল ট্যাবলেট উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যসহ তাকে হাতেনাতে ধরে থানা হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও দেশের সার্বিক মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় আটককৃত নেতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আটককৃত নেতার পূর্ববর্তী বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও অভিযোগের দীর্ঘ তালিকা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়া এই রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক বিতর্কিত ও নিয়মবহির্ভূত সামাজিক অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িত থাকার মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে। পূর্বে রাজনৈতিক শৃঙ্খলাভঙ্গ ও ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগ নেতাদের কাছ থেকে অবৈধ আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সুস্পষ্ট অপরাধে সংগঠন থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন এই নেতা। এছাড়া রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে সাধারণ ব্যবসায়ীর খাবারের দোকান দখল এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এর এক সাধারণ শিক্ষার্থীকে বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম ও মারাত্মক আহত করার গুরুতর অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। বারবার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার কারণে ক্যাম্পাসের সার্বিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছিল বলে সাধারণ শিক্ষার্থী ও প্রাতিষ্ঠানিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।
সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া
অভিযুক্ত নেতার অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি পরিষ্কার জানিয়েছেন যে, ছাত্রসংগঠন হিসেবে তারা সর্বদা মাদক মুক্ত ও সুসংগঠিত শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। মাদককাণ্ডে অপরাধ প্রমাণিত হলে সংগঠনের নীতি অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে কঠোর ও যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান স্পষ্ট কণ্ঠে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মাদক বহন, সেবন এবং বিক্রি দেশের প্রচলিত আইনে একটি মারাত্মক ও কঠোরভাবে শাস্তিসোগ্য গুরুতর অপরাধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও সুনাম রক্ষার্থে অপরাধী যেই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শিক্ষাঙ্গন সুরক্ষিত রাখতে এই ধরনের অপরাধিদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবিরাম নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন ছাত্রসমাজ ও শিক্ষকমহাল। এই ঘটনার পর পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
#রাজশাহী #মাদকবিরোধী_অভিযান #রাজনীতি #আইনশৃঙ্খলা #বাংলাদেশ