রাজশাহীর পবা উপজেলায় ভুয়া কৃষকদের নামে সার উত্তোলনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের এক কর্মীকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ১৫ বস্তা সার উদ্ধার করেছেন। এই ঘটনার জেরে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তার কীটনাশকের দোকানের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। ঘটনাটি সোমবার (৩০ আগস্ট) পবা উপজেলার বড়গাছি বাজারে ঘটেছে।

ঘটনার বিবরণ

অভিযুক্ত মো. লাকি, যার বড়গাছি বাজারে ‘বাদশা এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি কীটনাশকের দোকান রয়েছে, সেখান থেকে শুধুমাত্র বালাইনাশক বিক্রির অনুমোদন রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাকি বড়গাছি বাজারের বিসিআইসি অনুমোদিত সার পরিবেশক মেসার্স জনতা হার্ডওয়্যার থেকে চার বস্তা ইউরিয়া, সাত বস্তা এমওপি, পাঁচ বস্তা টিএসপি এবং তিন বস্তা ডিএপি সার তোলেন। তিনি গত রবিবার (২৯ আগস্ট) চারজন ভুয়া কৃষকের নামে মেমো সংগ্রহ করেন এবং সোমবার বেলা তিনটার দিকে সার তুলতে যান।

স্থানীয়দের প্রতিবাদ

সার উত্তোলনের সময় স্থানীয় লোকজন আপত্তি জানান। তারা প্রশ্ন তোলেন, যখন একজন কৃষককে এক বস্তাও সার দেওয়া হচ্ছে না, তখন লাকি কেন ভ্যানভরে ১৫ বস্তা সার নেবেন? এ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয় এবং জাকির হোসেন নামের একজন স্থানীয় অটোচালককে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যেই সারভর্তি ভ্যান পরিবেশকের গুদাম থেকে লাকির দোকানে নিয়ে যাওয়া হয়।

কৃষক চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছে না, কিন্তু লাকি ভুয়া মেমো দিয়ে ১৫ বস্তা সার নিয়ে গেল। এই অন্যায় আমরা সহ্য করব না। এ জন্যই আমি প্রতিবাদ করেছি।

উদ্ধার অভিযান ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ

খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণকারী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান এবং পবা থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে লাকির দোকান থেকে সার ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন। পুলিশ ও কৃষি কর্মকর্তারা উদ্ধারকৃত সার বিসিআইসির মূল পরিবেশকের গুদামে ফেরত আনেন। নতুন ১৫ বস্তা ছাড়াও লাকির দোকানে আগে থেকেই আরও ৪ বস্তা সার ছিল। আইনত সার বিক্রির অনুমোদন না থাকায় মোট ১৯ বস্তা সারই ফেরত আনা হয়। পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এ মান্নান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ব্যবস্থা নিয়েছেন। লাকিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তার দোকানের লাইসেন্স বাতিল করার সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ও পরিবেশকের বক্তব্য

ভুয়া কৃষকের নামে সার দেওয়ার বিষয়ে পরিবেশক খলিলুর রহমান জানান, কৃষকদের নাম এলোমেলো হয়ে গেছে। মো. লাকি দাবি করেন, খুচরা সার কৃষকদের দেওয়া হয় না, তাই তিনি সার সংগ্রহ করে কীটনাশকের দোকান থেকে অল্প করে বিক্রি করার জন্য নিয়েছিলেন। ভুয়া কৃষকের তালিকা দিয়ে ১৫ বস্তা সার নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন,

এগুলো বিভিন্ন রকমের সার। কৃষকের নাম দিয়েই নিতে হয়।

তবে বড়গাছি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মিলন রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, লাকি তাদের দলের যুব বিভাগের কর্মী।