রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদকাসক্তি অন্যতম কারণ বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি জানিয়েছেন, এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেছেন যে, অধিকতর তদন্ত শেষে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে এবং জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

আজ রোববার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এই মন্তব্য করেন। তিনি এই হত্যাকাণ্ডকে লোমহর্ষক ও মর্মান্তিক আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা জানানোর ভাষা খুঁজে পাননি বলে উল্লেখ করেন।

আমি আজ তাঁদের (হত্যার শিকার) বাসায় এসে যতটুকু বুঝতে পারলাম, জড়িতরা মাদকাসক্ত হয়ে বাসার গার্ডিয়ান (অভিভাবক), আমাদের প্রিয় স্যার গণপতি চক্রবর্তীকে হয়তো সব সময় ডিস্টার্ব (উত্ত৵ক্ত) করত। হয়তো স্যার বাধা দিতে গিয়েছিলেন। আর সে কারণ থেকেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত

গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ মাছুয়াপাড়ায় তাঁদের নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

এই ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ একই এলাকার কানু দাসের ছেলে মুগ্ধ দাস এবং বিনয় দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত এই দুজন আদালতে স্বেচ্ছায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু উল্লেখ করেন, আসামিদের স্বীকারোক্তির কারণে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই।

মাদক নির্মূলে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান

সরকার এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে বলে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানান। তিনি বলেন, অধিকতর তদন্ত শেষে পুলিশ দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল করবে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পেছনে মাদককে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শুধু আইন-প্রশাসনের মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। মাদকের বিরুদ্ধে পাড়া-মহল্লায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী, পরিবহনকারী ও সেবনকারীদের আইনের আওতায় আনতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং মাদক নির্মূলে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন, যা সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।