কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের সমাবেশে হামলা ও সংঘর্ষ: গুরুতর অভিযোগ প্রতিমন্ত্রী নুরের
কুষ্টিয়া শহরের একটি শান্তিময় পরিবেশে হঠাৎ করেই মারাত্মক সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে আয়োজিত একটি রাজনৈতিক সমাবেশে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। জানা গেছে, রাজনৈতিক দল গণঅধিকার পরিষদ-এর আয়োজিত একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে হঠাৎ একদল সশস্ত্র হামলাকারী নৃশংস আক্রমণ চালায়। এই সহিংসতার ঘটনায় একাধিক নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উক্ত ঘটনা সম্পর্কে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ও প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রদত্ত এক স্ট্যাটাসে উক্ত হামলার বিশদ বিবরণ তুলে ধরেছেন গণঅধিকার পরিষদ-এর সভাপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি এই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। তিনি তার ফেসবুক বার্তার শিরোনামে লিখেছেন, “রগকাটা জামায়াত-শিবির তার স্বরূপে ফিরেছে!” এই শিরোনামের অধীনে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কুষ্টিয়া জেলায় আয়োজিত দলের অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত নিরপরাধ নেতা-কর্মীদের ওপর প্রতিপক্ষ দলের কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী হামলা করেছে।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে মারাত্মক দেশীয় ও ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এসেছিল। রামদা, হকিস্টিক, ছুরি ও চাপাতির মতো বিপজ্জনক অস্ত্র নিয়ে সমাবেশস্থলে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের ওপর নির্বিচারে উপর্যুপরি হামলা চালানো হয়। এতে সমাবেশস্থল মুহূর্তে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তাদের বিক্ষোভ সমাবেশটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ছিল এবং কোনো প্রকার উসকানিমূলক আচরণ ছাড়াই হঠাৎ এই রক্তক্ষয়ী তাণ্ডব চালানো হয়।
আহতদের অবস্থা এবং চিকিৎসাসেবা প্রদান
উক্ত ন্যক্কারজনক হামলায় গণঅধিকার পরিষদ এবং এর সহযোগী সংগঠনের বহু নেতা-কর্মী মারাত্মক শারীরিক জখমের শিকার হয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী জানান যে, “হামলায় গুরুতর জখম হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক এবং ছাত্র অধিকার পরিষদ কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সভাপতি সোহান আহমেদ।” এছাড়া প্রায় অর্ধশত সাধারণ নেতা-কর্মী এই হঠাৎ আক্রমণে রক্তাক্ত ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তীব্র নিন্দা ও রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি
ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সকলের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো সহনশীলতার পরিচয় না দিয়ে সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছে। তিনি প্রতিপক্ষ জামায়াত-শিবির-এর এই সহিংস কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “জামাত-শিবিরের এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, গত দেড় দশক যেভাবে আত্মগোপনে ছিলেন, বাড়াবাড়ি করলে আবারও চিরতরে গুপ্ত থাকার ব্যবস্থা করা হবে।”
তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, ভবিষ্যতে এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটলে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। দোষী ব্যক্তিদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি তুলেছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
#কুষ্টিয়া #গণঅধিকারপরিষদ #হামলা #বাংলাদেশ #রাজনীতি