ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ২০১৯ সালের নির্বাচনের ৭ বছর ৫ মাস পর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে মো. রাশেদ খাঁনকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। পূর্বে ঘোষিত বিজয়ী ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ার প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই ঘোষণার মাধ্যমে ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনের জিএস পদের দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা এবং বিতর্ক নিরসন হলো, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এই সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালাম মো. রাশেদ খাঁনকে ২০১৯ সালের ডাকসুর নতুন জিএস হিসেবে ঘোষণা করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা এবং একাডেমিক সততার প্রতি গুরুত্বারোপ করে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
এই ঘোষণার পূর্বে মো. রাশেদ খাঁন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি জানান। তার ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন:
আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর এমফিলের ছাত্রত্ব বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত তদন্ত কমিটি কর্তৃক অবৈধ প্রমাণিত হওয়ায় এবং সিন্ডিকেট কর্তৃক শোকজ নোটিশের উপযুক্ত জবাব দিতে না পারায় একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ার প্রেক্ষিতে ডাকসু পদ বাতিল করা হয়েছে এবং ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ২য় সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্ত মো. রাশেদ খাঁনকে জিএস ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।
২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে জিএস পদে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী মোট ১০ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়েছিলেন। একই নির্বাচনে মো. রাশেদ খাঁন ৬ হাজার ৬৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ার ফলে তার ডাকসু পদও বাতিল হয়ে যায়, যার ফলস্বরূপ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্ত প্রার্থীকে জিএস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্তটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘসূত্রিতা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত তদন্ত কমিটি গোলাম রাব্বানীর এমফিলের ছাত্রত্বকে অবৈধ প্রমাণ করে। এরপর সিন্ডিকেট কর্তৃক তাকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়, যার উপযুক্ত জবাব তিনি দিতে পারেননি। এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়। ছাত্রত্ব বাতিলের এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতেই সিন্ডিকেট তার ডাকসু পদ বাতিল করে এবং মো. রাশেদ খাঁনকে নতুন জিএস হিসেবে ঘোষণা করে। এই ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং নিয়মনিষ্ঠার প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
এই দীর্ঘ ৭ বছর ৫ মাসের অপেক্ষার পর জিএস পদে নতুন ঘোষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রতিনিধিদের নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ করলো। মো. রাশেদ খাঁনের এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে।