রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের একক প্রার্থী অলি আহমদ

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)-র চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম-কে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। ঢাকা-র বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দেশের বর্তমান জটিল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সর্বসম্মতভাবে এই অভিজ্ঞ নেতাকে রাষ্ট্রপ্রধান পদের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে, যিনি চলমান সংকটে একজন যোগ্য অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির উদ্যোগ

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সার্বিক প্রক্রিয়া এবং সাংবিধানিক ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পূর্বে নানা আলোচনা ও প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছিল। জোটের প্রত্যাশা ছিল, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের দীর্ঘদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হবে। তবে বর্তমান সরকার সংস্কার কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন সংস্থাকে দলীয়করণের যে অপচেষ্টা চলছে, তা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে জোটের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ও বিরোধী জোটের অবস্থান

সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলের প্রতিনিধিরা জানান, “আমরা প্রথম অধিবেশনেই স্পষ্ট জানিয়েছিলাম যে ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে চিহ্নিত রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নিয়োগ করা প্রয়োজন।” অথচ বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আরও ছয় মাস বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নিয়ে দেশের সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। আগামী পাঁচ বছর যিনি রাষ্ট্রপতির পদে দায়িত্ব পালন করবেন, তার ভূমিকা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মত ব্যক্ত করা হয়।

প্রার্থীর অভিজ্ঞতা ও ঐকমত্যের গুরুত্ব

কর্নেল (অব.) অলি আহমদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রতি সম্মান জানিয়ে জোটের নেতারা বলেন, “তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা, একাধিকবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং অভিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ক।” তার মতো একজন জ্যেষ্ঠ ও সম্মানিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে রাষ্ট্রপতি পদে বসানো হলে তা জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনাগ্রহের কারণে সর্বসম্মত রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের সুযোগ নস্যাৎ হয়েছে বলে কড়া সমালোচনা করা হয়।

১১ দলীয় ঐক্য বিশ্বাস করে যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যৌথ প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তটি দেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা এবং চলমান অস্থিরতা নিরসনে একটি সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে সংবিধানে রাষ্ট্রপতির নিরপেক্ষ ভূমিকা পুনপ্রতিষ্ঠা পাবে এবং দেশের রাজনীতিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হবে। আগামী দিনে এই জোট সংসদের ভেতরে ও বাইরে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে একযোগে কাজ করে যাওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করেছে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #রাষ্ট্রপতি_নির্বাচন #সংবাদ