দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এই নির্বাচনকে ঘিরে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে বিরোধী দলের অভিযোগ এবং ভবিষ্যতে এর সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের সংসদকক্ষে দুপুর ২টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে। এর আগে দুপুরে সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান যে, ৩৫ বছর পর সাংবিধানিক রীতি মেনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনে সরকারি দল এবং বিরোধী দল উভয় পক্ষ থেকেই প্রার্থী রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এর আগে অনেকবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্পন্ন হয়েছে। তবে এবার গণতান্ত্রিক ধারায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে নির্বাচন হওয়াকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, দেশের জনগণ এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক চর্চা দেখতে পাবে এবং এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র নতুনভাবে যাত্রা শুরু করবে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ ও ভবিষ্যৎ পরিবর্তন

বিরোধী দল অভিযোগ করে আসছে যে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংসদ সদস্যদের দলের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ না দেওয়ায় গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই অভিযোগের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,

ভবিষ্যতে সংবিধানের যে সংশোধনী আসবে, ৭০ ধারাতেও পরিবর্তন আসবে।

তিনি আরও যোগ করেন যে, জুলাই জাতীয় সনদে যেভাবে ঐকমত্য হয়েছে, সেভাবে ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধিত হলে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সেই সংশোধিত অনুচ্ছেদ অনুসারেই হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে,

এখনো তো সংবিধান সংশোধন হয়নি।

তাই বর্তমান নির্বাচন বিদ্যমান সংবিধানের বিধান অনুসারেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জুলাই জাতীয় সনদ ও রাজনৈতিক সমঝোতা

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান যে, সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিতে বিরোধীদলীয় সদস্যরা এখনো যোগদান করেননি। জুলাই জাতীয় সনদের সমঝোতা প্রসঙ্গে সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির (বিএনপি) প্রতিনিধি হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদ চারটি বিষয়ের কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে অর্থবিল ও আস্থা ভোট নিয়ে সব দল মোটামুটি একমত ছিল যে, ৭০ অনুচ্ছেদে এই দুটি বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা থাকবে না।

তবে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিল এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দলের বাইরে ভোট দিতে পারা না পারা নিয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির (বিএনপি) পক্ষ থেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত ছিল। তাদের মতে, এই দুটি বিষয়ে সংসদ সদস্যরা দলের মতামত অনুসারে ভোট দেবেন। আরেকটি বড় বিরোধী দল তখন সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে দ্বিমত পোষণ করেনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও ব্যাখ্যা করেন,

আমাদের বিদ্যমান বিধান মতে বিদ্যমান সংবিধানে যা আছে, সে মতেই এই ভোটটা হবে। এখানে সংসদ সদস্যরা যে যে দলের পক্ষ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মার্কা নিয়ে, তাঁরা সেই দলের সিদ্ধান্ত অনুসারে ভোট দেবেন।