সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস দুর্ঘটনা ও হতাহত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে শ্রমিকদের মর্মান্তিক মৃত্যু ও অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছেন রাজনীতিবীদরা। শুক্রবার এক বিশেষ বিবৃতিতে এই দুর্ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। একইসঙ্গে আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তা বিধিমালা লঙ্ঘন ও সেনাবাহিনীর সহায়তা
অভিযোগ উঠেছে যে, শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার পেছনে নিরাপত্তা বিধিমালা চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পুরোনো জাহাজ ভাঙার আগে ক্ষতিকর গ্যাস বের করে দেওয়ার জন্য বেশ কিছু আগাম প্রস্তুতি ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, উক্ত ইয়ার্ডে এসব সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ সঠিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি। ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই তীব্র ছিল যে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সহায়তা প্রার্থনা করতে হয়। এর থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে শিপইয়ার্ডের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর ছিল।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও প্রাণহানির চিত্র
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে একটি পুরোনো স্ক্র্যাপ জাহাজ পরিষ্কারের কাজ চলাকালে আকস্মিকভাবে এই গ্যাস দুর্ঘটনা ঘটে। কাজের সময় হঠাৎ চারদিকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে ইয়ার্ডে কর্মরত প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিক মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজনের মৃত্যু হলে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়ায়। এ ঘটনায় চিকিৎসাধীন আরও কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
অন্যদিকে ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, দুর্ঘটনার দিন ইয়ার্ডের স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ ছিল। সকালের দিকে একটি এলএনজি স্ক্র্যাপ জাহাজের ট্যাংকে হঠাৎ লিকেজ তৈরি হলে গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে। তাদের দাবি, স্থানীয় কিছু উৎসুক জনতা বিষয়টি দেখতে সেখানে উপস্থিত হলে মারাত্মক গ্যাসে আক্রান্ত হন। ফলে আহতদের অনেকে পেশাদার শ্রমিক ছিলেন না। তবে রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং স্থানীয় সাধারণ জনগণ এই দাবির সুষ্ঠু তদন্ত চান। তারা মনে করেন, প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সচেতন মহল দাবি জানিয়েছেন যে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য দেশের প্রতিটি শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
#সীতাকুণ্ড #দুর্ঘটনা #শিপইয়ার্ড #চট্টগ্রাম