স্বামীর মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির

বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেত্রী দীপু মনি তার স্বামী তৌফীক নেওয়াজের মৃত্যুজনিত কারণে প্যারোলে মুক্তির জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর শারীরিক জটিলতায় ভুগে চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করার পর পরিবারের পক্ষ থেকে এই বিশেষ আইনি আবেদনটি জমা দেওয়া হয়। দীপু মনির আইনজীবী অ্যাডভোকেট গাজী ফয়সাল ইসলাম জানিয়েছেন যে, এই মানবিক আবেদনটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যথাযথ নিয়ম মেনে আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা ও অকাল প্রয়াণ

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তৌফীক নেওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও লিভারের মারাত্মক জটিলতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা-র একটি আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। তবে চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও মঙ্গলবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার এই আকস্মিক ও বেদনাদায়ক প্রয়াণে পরিবার এবং আত্মীয়স্বজনের মাঝে চরম শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কারাগারে আলোচনা ও সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া

স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দীপু মনির কন্যা তানি দীপাবলি নওয়াজ মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে গিয়ে তার কারাবন্দী মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কারাগারের ভেতরে অনুষ্ঠিত এই আবেগঘন আলোচনায় পরিবারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং শেষবারের মতো স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সুবিধার্থে দীপু মনিকে প্যারোলে মুক্ত করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা সরাসরি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে দ্রুততম সময়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনি আবেদন পেশ

পরিবারের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে দীপু মনির আইনজীবী অ্যাডভোকেট গাজী ফয়সাল ইসলাম পরিবারের তিন সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হন। সেখানে তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে প্যারোলে মুক্তির আবেদন ফরমটি জমা দেন। উক্ত আবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয় যে, মানবিক দিক বিবেচনা করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যেন তাকে মুক্তি দেওয়া হয়, যাতে তিনি শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, “একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে স্বামীর মৃত্যু একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। এই সম্পূর্ণ আবেদনটি খাঁটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পেশ করা হয়েছে।” তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ে আবেদনটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, যেন সাবেক এই মন্ত্রী স্বচক্ষে শেষবিদায় জানাতে পারেন।

বর্তমানে দীপু মনি মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী হিসেবে দিন কাটাচ্ছেন। আইনের নির্ধারিত বিধান মেনে স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে প্যারোলে মুক্তির সময় ও শর্তাবলি দ্রুত চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে। সম্পূর্ণ বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

#বাংলাদেশ #আইন #রাজনীতি #সংবাদ