কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপির বহর হামলায় ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজা তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তিনি এই হামলার পেছনে থাকা মূল পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ঘটনাটির একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্তের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

কুষ্টিয়ার হাজী শরীয়তুল্লাহ একাডেমিতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই হুশিয়ারি দেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, শনিবার নিজস্ব এলাকায় সাধারণ জনগণের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম শেষ করে ফেরার পথে তার বহর এক আকস্মিক ও পরিকল্পিত হামলার শিকার হয়। তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, গণঅধিকার পরিষদ-এর নেতাকর্মীরা এই সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা এবং তার স্বাভাবিক রাজনৈতিক তথা জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি

এমপি আমীর হামজা স্পষ্ট ভাষায় জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হামলার নপথ্য নায়কদের চিহ্নিত করার জন্য তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি জানান, স্থানীয় পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনকে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ও চাপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থেকে নিজেদের অর্পিত দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে পালন করতে হবে। সহিংসতা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার শিথিলতা প্রদর্শন না করে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণের পরামর্শ দেন তিনি।

হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা ও জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

সংবাদ সম্মেলনে এমপি পুলিশের তৎকালীন ভূমিকা নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তার বহরের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি থাকা সত্ত্বেও এই হামলা প্রতিহত করতে তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে জানান, “থানার ওসি সাহেবের গাড়ি ছিল আমার বহরের সামনে এবং দ্বিতীয় কর্মকর্তার গাড়ি ছিল ঠিক পেছনে। তা সত্ত্বেও আমার ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয় এবং পুলিশ সদস্যরা সম্পূর্ণ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও যদি তার নিরাপত্তা এভাবে বিঘ্নিত হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি এখন চরম হুমকির মুখে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

#কুষ্টিয়া #রাজনীতি #সংবাদ #হামলা