মালিবাগে মসজিদ রক্ষার আন্দোলনে ৪ জন নিহতের বিচার দাবি: তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ
রাজধানীর মালিবাগে মসজিদ রক্ষার আন্দোলনে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এর কোনো সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এক যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে দলের শীর্ষ নেতারা ২০০২ সালের ওই মর্মান্তিক ঘটনার বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেন এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর আহ্বান জানান।
ঐতিহাসিক পটভূমি ও হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট
২০০২ সালের ১৫ আগস্ট মালিবাগে স্থানীয় একটি মসজিদের পবিত্র জমি অবৈধভাবে দখল করে ক্লাব প্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টা চালানো হয়। এর প্রতিবাদে এবং পবিত্র মসজিদের জায়গা পুনরুদ্ধারের দাবিতে স্থানীয় সাধারণ জনগণ, মাদরাসা শিক্ষার্থী ও আলেম-ওলামারা একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আয়োজন করেন। সেই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সক্রিয় কর্মী হাফেজ আবুল বাশার, হাফেজ রেজাউল করীম ঢালী, মাদরাসাছাত্র ইয়াহইয়া এবং সাধারণ পথচারী জয়নুল আবদিন নির্মমভাবে নিহত হন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, ঘটনার দীর্ঘ চব্বিশ বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদদের পরিবারের সদস্যরা আজও ন্যায়বিচার পাননি।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও নেতাদের বক্তব্য
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নেতারা যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “মসজিদের শহর হিসেবে পরিচিত ঢাকায় একটি ধর্মীয় উপাসনালয় ও তার পবিত্র ভূমি রক্ষা করতে গিয়ে চারজন সাধারণ মানুষের শহীদ হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত পীড়াদায়ক ও হৃদয়বিদারক।” তারা আরও উল্লেখ করেন যে, এত বছর পরও এই সুনির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার না হওয়া একটি স্বাধীন দেশের আইনি ব্যবস্থার জন্য চরম লজ্জাজনক। স্বজনহারা পরিবারগুলো এতদিন ধরে ন্যায়বিচারের আশায় প্রহর গুনলেও শাসনব্যবস্থার উদাসীনতায় ঘাতকরা অধরাই রয়ে গেছে।
আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি ও ভবিষ্যৎ আহ্বান
সংগঠনটির নেতারা রাজপথের এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল অভিযুক্তকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বর্তমান দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ অতীতের সমস্ত ব্যর্থতা পেছনে ফেলে দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। মসজিদ পুনরুদ্ধার আন্দোলন কেবল একটি ধর্মীয় লড়াই ছিল না, বরং এটি ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ।
বিবৃতিতে দেশের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলিম ও সচেতন জনগণকে শহীদদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করার আহ্বান জানানো হয়। তারা প্রার্থনা করেন, মহান রাব্বুল আলামিন যেন ধর্মের তাগিদে জীবন উৎসর্গকারী সকল শহীদকে জান্নাতে সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন এবং তাদের স্বজনদের এই দীর্ঘ বেদনা সহ্য করার তাওফিক দান করেন। নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, সুবিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা এই সত্যের আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াবেন না এবং রাজপথে ও আইনগতভাবে সোচ্চার থাকবেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #মালিবাগ #বিচার_দাবি