গণভোটের গণরায় অস্বীকার থেকে নতুন ফ্যাসিবাদের সূচনা: জামায়াত আমির
ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত আল ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র জেলা আমির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যে মুহূর্ত থেকে গণভোটের রায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, ঠিক সেদিন থেকেই দেশে এক নতুন ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়। তিনি চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে, অতীতে দেশবাসী যে ধরনের স্বৈরাচার ও অন্যায় দেখেছে, আগামী দিনের ফ্যাসিবাদ তার চেয়েও বহুগুণ বেশি ভয়াবহ ও বিপজ্জনক রূপ ধারণ করতে পারে।
বিচার বিভাগ ও পিএসসি পুনর্গঠনে বাধা এবং রাজনৈতিক প্রভাব
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বডি গঠনের লক্ষ্যে অধ্যাদেশ জারি করা হলেও তা চক্রান্ত করে ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিচার বিভাগে রাজনৈতিক দলীয় প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ টিকিয়ে রাখা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দলীয় বিবেচনায় বিচারক নিয়োগের কারণে অতীতে বিতর্কিত ব্যক্তিত্বের জন্ম হয়েছে এবং যার কুফল পুরো দেশকে আজ ভোগ করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা পিএসসি পুনর্গঠনের অধ্যাদেশও একইভাবে প্রতিহত করা হয়েছে বলে তিনি তীব্র ক্ষোভ জানান।
জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং এবং সরকারের চরম ব্যর্থতা
দেশের সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি ও সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামী-র প্রধান বলেন, বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাত চরম সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। এই কঠিন জাতীয় সংকট মোকাবিলায় জাতীয় সংসদসহ রাজপথের সকল রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা উচিত ছিল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো জাতীয় পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বরং সরকারিভাবে দাবি করা হচ্ছে যে তেলের কোনো অভাব নেই এবং কিছু অসাধু লোক তেল মজুত করে চোরাই পথে পাচার করছে।
তিনি একে সরকারের নীতিগত ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের ফলে সাধারণ ও ভুক্তভোগী মানুষের কষ্ট কেবল বৃদ্ধিই পাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রতিদিন তেলের ড্রাম কোথা থেকে উদ্ধার হচ্ছে তা কি দেশের জনগণ বোঝে না? যদি দেশে সত্যিই জ্বালানি সংকট না থেকে থাকে, তবে দেশের সর্বত্র দৈনিক ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত কেন তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে?
বিচার বিভাগের স্বায়ত্তশাসন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিষ্ক্রিয়তা
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পরিবর্তন করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক বর্তমানে কার্যত পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় ও স্থবির হয়ে পড়েছে। তাছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পদত্যাগ করে প্রকাশ্য খোলা চিঠি দিয়েছে, যা রাষ্ট্রের করুণ চিত্র তুলে ধরে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে জামায়াত আমির বলেন, একদিকে বিচারকদের স্বাধীন বলে দাবি করা হয়, অন্যদিকে তাদের ওপর খড়্গহস্ত হয়ে ২৮ জন বিচারককে শোকজ করা হয়েছে। বিচারকেরা যদি সত্যিই স্বাধীন হয়ে থাকেন, তবে তাদের ওপর বারবার এভাবে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে কেন এবং অহেতুক ছড়ি ঘোরানো হচ্ছে কেন?
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #জামায়াত #জ্বালানিসংকট