বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল সম্প্রতি এক মতবিনিময় সভায় বলেছেন যে, অতীতে যারা সরকারে ছিল তারা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার লুণ্ঠন করেছে এবং তাদের সংখ্যালঘু হিসেবে চিহ্নিত করে রেখেছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামী সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠের নীতিতে বিশ্বাসী নয়, বরং রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিককে সমান চোখে দেখে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের (ঢাকা-৬ আসনের) উদ্যোগে মন্দির ও পূজা কমিটির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল এসব কথা বলেন। সভাটি রাজধানীর স্বামীবাগের ঢাকা পার্টি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। অতীতের সরকারের ভূমিকা ও জামায়াতের অবস্থান নূরুল ইসলাম বুলবুল তার বক্তব্যে অতীতের সরকারগুলোর সমালোচনা করে বলেন, তারা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে এবং তাদের সমাজে সংখ্যালঘু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। তিনি স্পষ্ট করেন, জামায়াতে ইসলামী বিভাজনমূলক নীতিতে বিশ্বাসী নয়। তাদের মতে, একটি রাষ্ট্রে সকল নাগরিকের অধিকার সমান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সুরক্ষা জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা আরও বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনার পর আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে হিন্দু নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা পাহারাদারের ভূমিকা পালন করবেন। পরবর্তীতে, সারাদেশে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীসহ আলেম-ওলামারা হিন্দুদের বাড়িঘর পাহারা দিয়েছেন। নূরুল ইসলাম বুলবুল উল্লেখ করেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা এরইমধ্যে স্বীকার করেছেন যে, জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকর্মী কিংবা মাদরাসার কোনো ছাত্র-শিক্ষক হিন্দুদের সম্পদ লুট বা ভাঙচুর করেনি। বরং, যারা নিজেদের হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষের লোক দাবি করেছিল, তারাই হিন্দুদের বাড়িঘর লুট ও সম্পদ দখল করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ইসলামী সমাজের ধারণা ও অধিকার সুরক্ষা নূরুল ইসলাম বুলবুল ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠিত হলে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করবে। তিনি পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারাহর ২৫৬ নং আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, "ধর্মের ব্যাপারে কোনো বাড়াবাড়ি নেই।" তিনি আরও বলেন, সূরা নিসার ২৯ নং আয়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, "একে অপরের সম্পদ গ্রাস করিও না।" এই দুটি আয়াতের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, ইসলাম ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকারের ব্যাপারে কতটা সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। তবে, যারা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে, তারা ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে ভয়ভীতি সৃষ্টি করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। জামায়াতের প্রতিশ্রুতি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির বলেন, এখনো ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে হলে তাদের উপাসনালয় ও মূর্তি পাহারা দিতে হয়। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, মানুষের তৈরি মতবাদে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয় না। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা করে প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার সমানভাবে নিশ্চিত করবে। তিনি আরও বলেন, ইসলামী রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৬ সংসদীয় আসন কমিটির নির্বাচন পরিচালক কামরুল আহসান হাসানের সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।