সরকার উৎখাতের বক্তব্য হতাশাজনক: জয়নুল আবদিন ফারুক
গঠনমূলক সমালোচনা দেশের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার পতনের মতো কথা বলা অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি বলেন, মাত্র ১৫ দিনের মাথায় একটি নির্বাচিত বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারকে উৎখাত করার কথা বলা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। নতুন সরকারকে তাদের কাজের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া উচিত।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এক গুরুত্ব পূর্ণ আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। ফারুক জোর দিয়ে বলেন যে, মাত্র আড়াই থেকে তিন মাসের মাথায় সরকারের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলা বা অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করা রাজনীতি ও দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর নতুন যাত্রার প্রতি সমর্থন
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে ফারুক উল্লেখ করেন, “বিগত ১৬ বছর ধরে দেশের মানুষ যেভাবে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছে, সেই তুলনায় এই নতুন সরকারকে সময় দিয়ে সুষ্ঠুভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।” তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত ১৭ তারিখে আনুষ্ঠানিক শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে সরকারের যে নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে, তার ইতিবাচক প্রতিফলন ইতিমধ্যেই দেশের নানা ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে। বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।
তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, সব কাজ যদি মাত্র তিন মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব হতো, তবে দীর্ঘ মেয়াদের কোনো প্রয়োজন হতো না। তাই সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে ধৈর্য ধারণ করার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও জাতীয় প্রত্যাশা
বর্তমান সরকারের প্রতি দেশের মানুষের সীমাহীন প্রত্যাশা রয়েছে উল্লেখ করে এই রাজনীতিবিদ বলেন, অতীতের শাসনামলে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে পড়া এই অর্থনীতিকে পুনরায় শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে এবং সার্বিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যৌক্তিক সময় লাগবে। এই সংকটময় মুহূর্তে সরকারকে সব দিক থেকে সহযোগিতা করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠা, সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা এবং জনগণের সেবাকে সর্বাত্মক অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নির্যাতন, মিথ্যা মামলা এবং দমন-পীড়নের পর জনগণের অকুন্ঠ সমর্থনে এই সরকার গঠিত হয়েছে। তাই সংসদ এবং রাজপথ—উভয় স্থানেই ইতিবাচক ও সহযোগিতামূলক রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রাখা উচিত।
আন্তর্জাতিক মে দিবস প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি শ্রমজীবী মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং প্রত্যাশা প্রকাশ করেন যে, সরকার যেন সর্বদাই সাধারণ মানুষের সেবায় নিবেদিত থাকে। উক্ত আলোচনা সভায় সমমনা জোট ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #বিএনপি #সংবাদ