খালেদা জিয়ার জানাজায় লাখো মানুষের ঢল: শেষ শ্রদ্ধায় সর্বস্তরের জনগণ

দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজ অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও শোকাবহ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত এই বিশাল জানাজায় অংশ নেন দেশের লাখ লাখ অগণিত সাধারণ মানুষ। জানাজা শুরুর বহু আগেই মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ সুসজ্জিত অ্যাম্বুলেন্সে করে নির্ধারিত স্থান ও জানাজাস্থলে নিয়ে আসা হয়। প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে এবং তার শেষ বিদায়ে শরিক হতে সকাল থেকেই দেশের দূর-দূরান্তের বিভিন্ন জেলা ও স্থান থেকে হাজার হাজার অনুসারী এবং সাধারণ জনতা ঐতিহাসিক এই স্থানে সমবেত হতে থাকেন।

পরিবার ও দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি

অনুষ্ঠিত জানাজার নামাজে অংশ নেন তার জ্যেষ্ঠ পুত্র ও দলীয় নেতা তারেক রহমান। পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, দেশি-বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং সমাজের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। বিকেল পৌনে ৩টার দিকে জানাজার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। জানাজা শুরু হওয়ার ঠিক পূর্বমুহূর্তে বিএনপি-র জ্যেষ্ঠ নেতা নজরুল ইসলাম খান সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য জীবনের নানা স্মরণীয় দিক এবং তার রাজনৈতিক সংগ্রাম ও জীবনবৃত্তান্ত আবেগঘন ভাষায় তুলে ধরেন।

খালেদা জিয়ার দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তিনি একাধিকবার দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব সাহসিকতার সঙ্গে পালন করেছিলেন। তার আমলজুড়ে দেশের শাসনব্যবস্থা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সূচিত হয়েছিল। রাজপথের আপসহীন আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার শীর্ষবিন্দুতে তার অবস্থান তাকে সর্বস্তরের জনগণের কাছে এক অনন্য ও জনপ্রিয় নেত্রীতে পরিণত করেছিল।

রাজনীতিতে চিরস্মরণীয় অবদান ও সর্বজনীন শ্রদ্ধা

তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য চড়াই-উতরাই ও প্রতিকূল পরিস্থিতি অতিক্রম করতে হয়েছে। বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে তিনি যেভাবে দলীয় নেতাকর্মী এবং দেশের সাধারণ গণমানুষকে সুসংগঠিত রেখে নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সর্বদা বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সার্বিক স্বাধীনতা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার অবিচল অবস্থান ও কঠিন সংগ্রাম সর্বস্তরের রাজনৈতিক মহলে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

জানাজা শেষে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাতে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং মরহুমার চিরশান্তি কামনা করে সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে বিশেষভাবে প্রার্থনা জানানো হয়। সেখানে উপস্থিত সর্বস্তরের মানুষ ও হাজার হাজার জনতা অত্যন্ত অশ্রুসজল নয়নে এবং গভীর শ্রদ্ধায় তাদের প্রিয় রাজনৈতিক অভিভাবককে শেষ বিদায় জানান। জানাজা স্থান ও এর আশপাশের সমগ্র এলাকা মুহূর্তের মধ্যে এক অসীম শোকাকুল ও বিষাদময় পরিবেশে পরিণত হয়, যা দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অত্যন্ত আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি করে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #জাতীয়তাবাদ