আইন অমান্য করে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ নেই: নজরুল ইসলাম খান

দেশের প্রচলিত আইন অমান্য করে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম পরিচালনা করার কোনো সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং বিএনপি-র স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন যে, যদি কোনো দল বা ব্যক্তি দেশের সার্বভৌমত্ব ও আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কোনো অপকর্মে লিপ্ত হয়, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

রাজধানী ঢাকা-র ঐতিহ্যবাহী জিয়া উদ্যান এলাকায় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন। এসময় তিনি ও উপস্থিত নেতৃবৃন্দ সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা

বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “দেশের আইন অমান্য করে রাজনীতি করার স্বাধীনতা কারো নেই। কোনো দল বা গোষ্ঠী রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে তার দায় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি নেবে না, বরং দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের অর্পিত দায়িত্ব অনুযায়ী যথাযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই যেকোনো দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

জনস্বার্থ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ রাজনীতির রূপরেখা

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনকালের সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন যে, অন্যায় ও শাসনতান্ত্রিক বিচ্যুতির কারণে আজ তাদেরকে জনবিচ্ছিন্ন হতে হয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, বিএনপি কখনোই জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবে না। তাই দেশে রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত যেকোনো আইন নিয়ে তাদের দল মোটেও চিন্তিত বা উদ্বিগ্ন নয়। কারণ, তারা সর্বদা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইন ভঙ্গের পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে প্রস্তুত।

দলীয় কাউন্সিল ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া

বিগত ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শাসনামলের নানা প্রতিকূলতা এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর সংকটের কথা স্মরণ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকার লড়াই পরিচালনা করতে গিয়ে নির্ধারিত সময়ে দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল আয়োজন করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে বর্তমান পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে খুব শিগগিরই বিএনপি এবং এর সকল সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনগুলোর জাতীয় কাউন্সিল অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সুসম্পন্ন করা হবে।

এই তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের শীর্ষস্থানীয় আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবগণসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সকলেই আগামী দিনে দেশের শাসনতন্ত্র ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে একযোগে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #আইনশৃঙ্খলা #বিএনপি #সংবাদ