ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ সংগঠনের লিফলেট তৈরিকালে আটক দুই

চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ-এর প্রচারপত্র ও লিফলেট তৈরির অভিযোগে এক মহিলা লীগ নেত্রীসহ মোট দুজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয় বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা। গত সোমবার রাতে উপজেলার প্রাণকেন্দ্রের ঐতিহ্যবাহী এএইচ শপিং কমপ্লেক্সে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কম্পিউটার দোকান থেকে লিফলেট তৈরির অভিযোগ

ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, উপজেলা সদরের এএইচ শপিং কমপ্লেক্সের একটি কম্পিউটার দোকানে গোপনে নিষিদ্ধ সংগঠনের জন্য প্রচারপত্র ও প্রচারণামূলক বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছিল। এই ধরনের গোপন সংবাদ পেয়ে সেখানে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদল-এর একদল সচেতন নেতাকর্মী অবিলম্বে হাজির হন। পরবর্তীতে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে উক্ত মহিলা নেত্রী ও দোকানের কর্মী উজ্জ্বলকে ধরে ফেলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে সোপর্দ করতে সক্ষম হন।

আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও প্রাথমিক তথ্য

পুলিশ কর্তৃক আটক হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় ইতোমধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত হলেন বক্তপুর এলাকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য এবং ফটিকছড়ি উপজেলা মহিলা লীগ-এর প্রভাবশালী নেত্রী সুমি আক্তার। একই সাথে গ্রেপ্তার হওয়া অপর ব্যক্তি হলেন উক্ত শপিং কমপ্লেক্সের নির্দিষ্ট কম্পিউটার দোকানের নিয়মিত কর্মী উজ্জ্বল। ” নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠনের পোস্টার-লিফলেট প্রস্তুত করার সময় হাতেনাতে তাদের আটক করা সম্ভব হয়,” বলে প্রাথমিক বর্ণনায় জানা গেছে।

পুলিশের পদক্ষেপ ও বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

এই বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে গিয়ে স্থানীয় ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলেন, “আমরা বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত হয়েছি এবং দুজনকে আমাদের হেফাজতে গ্রহণ করেছি। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, অভিযোগের গভীরতা ও সত্যতা সূক্ষ্মভাবে যাচাই করার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর সমগ্র উপজেলা জুড়েই ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় নাগরিক সমাজ পুরো পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। উক্ত ঘটনার পেছনে আরও বড় কোনো চক্র কিংবা নেপথ্য চক্রান্ত জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় থানা পুলিশ তাদের তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখছে বলে জানা গেছে।

#চট্টগ্রাম #ফটিকছড়ি #রাজনীতি #আইনশৃঙ্খলা