আগামী জাতীয় নির্বাচনে নারীদের প্রার্থী করার পরিকল্পনা জামায়াতের: শীর্ষ নেতার গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য

রাজধানী ঢাকা-র আগারগাঁও এলাকায় অবস্থিত জাতীয় নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে এক যৌথ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জামায়াতে ইসলামী-র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, আগামী দিনগুলোতে তাদের রাজনৈতিক দল থেকে নারী কর্মীদের নির্বাচনে সরাসরি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করার অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও ইতিবাচক পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত-এ নারীদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে কোনো ধরনের একতরফা দলীয় সিদ্ধান্ত জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয় না। প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নারী নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, স্বতঃস্ফূর্ত ইচ্ছা এবং তাদের সামগ্রিক পারিবারিক ও বাস্তব পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।

দলীয় অভ্যন্তরীণ নীতি, নারীদের অংশগ্রহণ ও প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত নেতা বলেন, জামায়াতে ইসলামী-র মোট নেতাকর্মী ও সক্রিয় কর্মীদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশই নারী কর্মী, যা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অন্য যেকোনো দলের চেয়ে অনেক বেশি। তবে এই দলের সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী কোনো সদস্যের নিজ উদ্যোগে বা স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করার সুযোগ থাকে না। সাধারণত তৃণমূল ও মাঠপর্যায় থেকে যেসব মতামত ও প্রস্তাবনা আসে, তার ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে দলের যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও নারী কর্মীদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা তাদের নিজেদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়।

নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও নিরাপত্তার দাবি

নির্বাচনী প্রচারণার সার্বিক পরিবেশ তুলে ধরে জুবায়ের ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচারণায় অংশ নেওয়া তাদের নারী কর্মীদের ওপর হামলা, হেনস্তা ও শারীরিক নাজেহাল করার ঘটনা ঘটে চলেছে। তিনি বলেন, “গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, তাতে আমরা চরম উদ্বেগ ও গভীর উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, দেশের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকই নারী। ফলে নারী প্রার্থীরা রাজনীতিতে সক্রিয় হলে সাধারণ নারী ভোটাররা স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলতে পারেন। তিনি দাবি করেন, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলে একটি সুষম ও নিরপেক্ষ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা সম্ভব, অন্যথায় ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতির দিকে যেতে পারে।

এনআইডি কার্ড সংগ্রহ সংক্রান্ত অভিযোগের ব্যাখ্যা ও জনসমর্থন

দলীয় নির্দেশে নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের এনআইডি কার্ড বা বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছেন—এমন অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে জুবায়ের বলেন, “এ ধরনের ভিত্তিহীন খবরের কোনো সত্যতা আমাদের কাছে নেই। জামায়াতের পক্ষ থেকে কোনো কর্মীকে বাসা-বাড়িতে গিয়ে গোপনীয় জাতীয় পরিচয়পত্র বা আর্থিক লেনদেনের নম্বর চাওয়ার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।” তিনি দাবি করেন, বর্তমানে শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে নারী, তরুণ-তরুণী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে জামায়াত-এর প্রতি অভূতপূর্ব গণসমর্থন সৃষ্টি হয়েছে। এই জোয়ার দেখে ভীত হয়ে একটি বড় রাজনৈতিক দল তাদের ওপর সহিংস আচরণ করছে। বৈঠককালে নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দলীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #জামায়াত #জাতীয়_রাজনীতি #সংবাদ