৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে। গত শনিবার রাতে এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে এই দাবিগুলো তুলে ধরা হয়। দেশে গুমের শিকার ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনা, ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এই দাবিগুলোতে। এনসিপি তাদের এই দাবির মাধ্যমে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে এবং এই গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস বিশ্বজুড়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ ও তাদের জন্য ন্যায়বিচার চাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।

এনসিপির পাঁচ দফা দাবি

জাতীয় নাগরিক পার্টি তাদের ফেসবুক পোস্টে যে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে, সেগুলো দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং মানবাধিকারের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। এই দাবিগুলো হলো:

  • মোংলায় গুমের শিকার মিরাজ শেখকে অবিলম্বে খুঁজে বের করে তাঁর পরিবারের কাছে ফেরত দিতে হবে।
  • ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গুমের শিকার হওয়া সকল ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করতে হবে এবং তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
  • গুমের প্রতিটি ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অপরাধীরা শাস্তি পায় এবং ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।
  • গুম প্রতিরোধ আইনে গুমের অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের সুস্পষ্ট বিধান অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাতে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই তদন্ত পরিচালিত হতে পারে।
  • দেশে ভবিষ্যতে আর কখনো গুমের সংস্কৃতি ফিরে না আসে, তা নিশ্চিত করতে হবে এবং এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বার্তা

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে এনসিপির আহ্বায়ক এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম গণমাধ্যমে একটি বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছেন। তাঁর এই বার্তায় তিনি গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সত্য প্রকাশের আহ্বান জানান এবং গুমের ঘটনাগুলোর বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং তাদের পরিবারের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।

নাহিদ ইসলাম তাঁর বার্তায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “মিরাজসহ গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে সত্য তুলে ধরতে হবে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আমলে গুমের শিকার সব ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে হবে। গুমের প্রতিটি ঘটনার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। গুম প্রতিরোধ আইনে গুমের অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের সুস্পষ্ট বিধান রাখতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই ধরনের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য কঠোর আইন প্রণয়ন ও তার যথাযথ প্রয়োগ অপরিহার্য।

সহমর্মিতা ও অঙ্গীকার

এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আরেকটি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এই পোস্টে ফ্যাসিবাদী আমল এবং জুলাই অভ্যুত্থানকালে গুমের শিকার হওয়া সকল ব্যক্তি ও তাঁদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। এনসিপি এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলোর শিকার হওয়া পরিবারগুলোর পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি তাদের এই দাবির মাধ্যমে দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। গুমের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি বলে তারা মনে করে।