খালেদা জিয়া আপসহীন রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত: আমীর খসরু

চট্টগ্রাম শহরের কাজীর দেউরী আলমাস সিনেমা সংলগ্ন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এক নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি-র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেশের আপসহীন রাজনীতির এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত ছিলেন। ক্ষমতার বাইরে থেকেও তিনি জীবনের একটি দীর্ঘ সময় রাজপথের কঠিন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছেন এবং দেশের গণতন্ত্রের প্রশ্নে কখনো সামান্যতম আপস করেননি।

তিন দশকের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও বিশ্ব নেতৃত্বের সঙ্গে তুলনা

আমীর খসরু তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “মাত্র ১০-১১ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলেও প্রায় তিন দশক ধরে খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের পক্ষে আপসহীন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।” তিনি আরও বলেন, তৎকালীন কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতায় যখন অনেকেই ক্ষমতার কাছে নতি স্বীকার করেছিলেন বা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন খালেদা জিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজের লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন। এই বিরল বৈশিষ্ট্যের কারণেই তিনি অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের থেকে সম্পূর্ণরূপে আলাদা এক উচ্চতায় অবস্থান করছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনের মহান নেতাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মার্টিন লুথার কিং কিংবা নেলসন ম্যান্ডেলার মতো বিশ্ববরেণ্য নেতাদের ঐতিহাসিক আপসহীন সংগ্রামের সঙ্গে খালেদা জিয়ার মহীয়সী ত্যাগের তুলনা করা যায়। জীবদ্দশায় তার ত্যাগের গভীরতা সাধারণ মানুষের কাছে শতভাগ উপলব্ধি না হলেও, তার প্রয়াণের পর দেশবাসী গভীরভাবে অনুধাবন করতে পেরেছে যে তিনি বাংলাদেশ-এর মানুষের হৃদয়ে কতটা গভীর ও স্থায়ী আসন তৈরি করেছিলেন।

ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, আদর্শ ও ঐক্যের আহ্বান

আমীর খসরু আরও জোর দিয়ে বলেন, গণতন্ত্রের যে আলো ও মশাল খালেদা জিয়া জ্বালিয়ে গেছেন, তা এখন তারেক রহমানের হাতে ন্যস্ত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক মশালকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বহন করা দল ও দেশের প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই এখানেই শেষ নয়, বরং আগামী নির্বাচন পরবর্তী সময় রাজনৈতিকভাবে আরও বেশি কঠিন হতে পারে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তার মহান আদর্শ ধারণ করে শেষ পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।

বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত শোকসভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, ড. সুকোমল বড়ুয়া, এস এম ফজলুল হক, একুশে পদকপ্রাপ্ত দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক এবং ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন বক্তব্য প্রদান করেন। গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু কোনো দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন সমগ্র দেশের মানুষের নেতা। তার জানাজায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে কোনো প্রকার ভয়, চাপ কিংবা ক্ষমতার মোহের কাছে খালেদা জিয়া কখনো মাথা নত করেননি। তিনি কেবল মুখের কথায় গণতন্ত্রের কথা বলেননি, বরং নিজে গণতন্ত্রের পথে হেঁটেছেন। সভাপতির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দেশে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বেগম খালেদা জিয়ার অবদান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের হৃদয়ে লালিত এক দূরদর্শী নেত্রী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দৃঢ় সংকল্প ও অটল বিশ্বাসের এক বিরল নেতৃত্বের প্রতীক। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি জাতীয় ইতিহাসে অনন্য মর্যাদা অর্জন করেছেন। তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যিনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জাতির সেবায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #বিএনপি #চট্টগ্রাম #সংবাদ