নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ও মির্জা আব্বাসের গুরুতর অভিযোগ

শাহজাহানপুরে আয়োজিত এক নির্বাচনি প্রচারণাকালে বিএনপি-র স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, গত ১৭ বছরে তার নির্বাচনি এলাকা মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কারণে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। তিনি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে জানান, আসন্ন নির্বাচনে জনগণ তাকে জয়ী করলে তিনি এই পুরো এলাকাকে সব ধরনের অপশক্তি, মাদক, সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজিমুক্ত একটি নিরাপদ ও শান্তিপ্রিয় এলাকা হিসেবে গড়ে তুলবেন।

ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার

মির্জা আব্বাস অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অভিযোগ করে বলেন যে, অন্য দল ও সরকারের কিছু বিশেষ মহলের সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যে গভীর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের স্পষ্ট আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, “কিছু কথা শুনে মনে হচ্ছে—ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী দাবি করেছেন যে ঢাকা শহরে তারা বিরোধী দলকে একটি সিটও দেবে না। এর কড়া জবাবে মির্জা আব্বাস প্রশ্ন তোলেন, সিট দেওয়ার মালিক তারা কে? পরম করুণাময় আল্লাহ এবং দেশের সাধারণ জনগণই প্রকৃতপক্ষে এই দেশের সকল নির্বাচনি সিট ও ক্ষমতার মালিক।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল ও পরাজিত করতে প্রতিপক্ষ সব ধরনের অপকৌশল ও নানা ধরনের ডিজিটাল অস্ত্র ব্যবহার করছে। তার বিরুদ্ধে ক্রমাগত মিথ্যা ডকুমেন্ট ছড়ানো হচ্ছে এবং আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে ভুয়া কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিশাল বটবাহিনী দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো পুরোপুরি ভরে ফেলা হয়েছে। এই ধরনের ষড়যন্ত্রকারী ও অপপ্রচারকারী শ্রেণির মানুষ জাতির জন্য কখনোই কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।

গণতন্ত্র রক্ষা ও ইলেকট্রন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিহতের আহ্বান

মির্জা আব্বাস তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, প্রতিপক্ষ চরম অগণতান্ত্রিক, নীতিহীন ও স্বেচ্ছাচারী বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে বিশেষ কোনো অপশক্তি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চক্রান্ত চলছে, তবে সচেতন জনগণ তা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে।

#রাজনীতি #নির্বাচন #বাংলাদেশ #সংবাদ