আমজনগণ পার্টির নিবন্ধন নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: ডেসটিনির সঙ্গে সম্পৃক্ততা অস্বীকার
বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি (বিএজেপি)-এর নিবন্ধন প্রক্রিয়া আটকে দেওয়ার জন্য একটি বড় ধরনের ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে বলে কঠোর দাবি করেছেন দলের শীর্ষ নেতারা। ঢাকা-য় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ডেসটিনির সঙ্গে তাদের কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা থাকার খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা প্রচারণা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, ডেসটিনির সমস্ত অফিস বহু বছর ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এবং সেই সব অফিসকে তাদের দলের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করার তথ্যটি মোটেও সত্য নয়। এছাড়া এটি কোনো নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের রাজনৈতিক দল নয়, বরং দেশের বিভিন্ন দল ও মতের বহু মানুষ এখানে এসে স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্র হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনে শুনানি ও নিবন্ধনের সার্বিক অগ্রগতি
নির্বাচন ভবন-এ আম জনগণ পার্টি-র নিবন্ধন ইস্যুতে একটি সুদীর্ঘ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে চারজন মান্যবর নির্বাচন কমিশনার এবং আম জনগণ পার্টির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব সশরীরে উপস্থিত থেকে তাদের যাবতীয় লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য তুলে ধরেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, “আমাদের যথাযথ নিবন্ধিত কমিটি এবং নির্দিষ্ট কার্যালয় রয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে আশা করি নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করবে এবং আমরা পূর্ণ ন্যায়বিচার পাবো।” তারা মনে করেন যে, সঠিক তথ্য যাচাই করা হলে রাজনৈতিক দলটি আইন অনুযায়ী নিবন্ধন পাওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্যতা রাখে।
তৃণমূলের নেতিবাচক প্রতিবেদন ও মৌলিক অধিকারের দাবি
দলের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেসব জেলা ও উপজেলায় তারা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কমিটি গঠন করেননি, সেসব স্থান থেকেও রহস্যজনকভাবে তাদের বিপক্ষে নেতিবাচক প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি এই ঘটনাকে গভীর চক্রান্তের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, “এটি আমাদের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক রাজনৈতিক অধিকার চর্চায় সরাসরি বাধা দেওয়ার এক অপচেষ্টা।”
তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান যে, এ ধরনের রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা ও বৈষম্যমূলক আচরণ সত্ত্বেও তারা আইন ও সংবিধানের ওপর আস্থা রাখছেন। তারা বিশ্বাস করেন যে শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সকল বাধা অতিক্রম করে তাদের দলটি চূড়ান্তভাবে নিবন্ধন পেতে সক্ষম হবে।
তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে দলটি কাজ করে যাচ্ছে। তারা স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান। নিবন্ধনের এই দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়ায় যেকোনো ধরনের অন্যায় হস্তক্ষেপ সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে নেতারা কঠোর মন্তব্য করেন। পরিশেষে, তারা আশা প্রকাশ করেন যে নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে বস্তুনিষ্ঠ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এবং তাদের দলীয় কার্যক্রমকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদানের পথ সুগম করবে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #নির্বাচনকমিশন