বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের শপথ গ্রহণের আগেই নগর ভবনে প্রবেশ করে নিজেকে ‘মাননীয় মেয়র’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সভা করার ঘটনাকে ‘নতুন ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার স্পষ্ট আলামত’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম। তিনি এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ এবং ‘দখলবাজির ট্রায়াল’ বলেও অভিহিত করেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইশরাক হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেওয়ার আগেই ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এবং সভার ব্যানারে নিজেকে ‘মাননীয় মেয়র’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ইশরাকের কার্যকলাপের সমালোচনা
মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম সোমবার (১৬ জুন) বিকাল ৩টায় আইএবি মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইশরাক হোসেনের এই ধরনের কার্যকলাপ প্রমাণ করে যে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কী ধরনের আচরণ করবে। তার মতে, এটি একটি দখলবাজির পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ, যা গণতন্ত্রের জন্য শুভকর নয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মাওলানা ইমতিয়াজ আলম তার বক্তব্যে আরও বলেন, এই ধরনের ঘটনা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
ইশরাক হোসেন আনুষ্ঠানিক শপথের আগেই নগর ভবনে ঢুকে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এমনকি আয়োজিত অনুষ্ঠানের ব্যানারে নিজেকে ‘মাননীয় মেয়র’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এটি লজ্জাজনক এবং দখলবাজির ট্রায়াল মাত্র। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কী করবে, তারা নিজেরাই তা এখন দেখিয়ে দিচ্ছে।
জাতীয় নির্বাচন ও সংস্কারের দাবি
মাওলানা ইমতিয়াজ আলম আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও তার দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে বিচার ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা জরুরি। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য এই পদক্ষেপগুলো অপরিহার্য। তিনি আরও দাবি করেন যে, জাতীয় নির্বাচনের আগে একটি পরীক্ষামূলক স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন করা উচিত, যার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা যাচাই ও একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই নেতা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পিআর (প্রোপোর্শনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন। তিনি যুক্তি দেন যে, একক ফ্যাসিবাদ সৃষ্টির আতুরঘর বন্ধ করতে হলে পিআর পদ্ধতি চালু করা অপরিহার্য। এই পদ্ধতি চালু হলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং সকল দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।
সভায় অন্যান্যদের অংশগ্রহণ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত এই সভায় মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম ছাড়াও আলহাজ মাওলানা আবদুর রাজ্জাক, কে এম শরীয়তুল্লাহ, আলহাজ ফজলুল হক মৃধা, আলহাজ নজরুল ইসলাম খোকন, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা কামাল হোসাইন, শেখ মুহাম্মদ আবু তাহের, হাফেজ মাওলানা গোলামুর রহমান আজম এবং মুফতি আবদুল আহাদ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।
এই ঘটনা এবং এর পরবর্তী প্রতিক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত নির্বাচন সংস্কার ও পিআর পদ্ধতির দাবিগুলো দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।