শাপলা চত্বরের গণহত্যার বিচার ও শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি
মতিঝিলে অনুষ্ঠিত এক বিশাল মানববন্ধনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেছেন, তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকার ইসলাম ও ইসলামী নেতৃত্বকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার একটি সুগভীর নীলনকশার অংশ হিসেবে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে বর্বরোচিত গণহত্যা চালিয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব গণবিপ্লব সেই স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদকে চিরতরে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। রাজধানীতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে তিনি অবিলম্বে ওই গণহত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ শ্বেতপত্র প্রকাশ করার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান ব্যক্ত করেন।
আলেম-ওলামাদের ওপর অত্যাচার ও দেশব্যাপী তাণ্ডব
তিনি অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শাপলা চত্বরের সেই নৃশংস ও অমানবিক ঘটনার পর থেকে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামাদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে অন্ধকার কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছিল।” রিমান্ডের নামে আলেমদের ওপর যে অভূতপূর্ব, অমানবিক ও অবর্ণনীয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের পাতায় এক অতীব কাল অধ্যায় হিসেবে চিরকাল চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এই বর্বরোচিত দমন-পীড়নের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে দেশের সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে।
নূরুল ইসলাম আরও স্পষ্ট করে বলেন যে, সরকারি বাহিনী ও তাদের দোসরেরা শুধুমাত্র শাপলা চত্বরেই তাদের তাণ্ডব সীমাবদ্ধ রাখেনি। বরং এই তীব্র প্রতিবাদ আন্দোলন কঠোর হাতে দমনের উদ্দেশ্যে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের বিভিন্ন স্থানে অমানবিক দমন-পীড়ন চালায়। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ, বাগেরহাট এবং হাটহাজারীতে নিরীহ মানুষের ওপর নির্বিচারে ও নির্মমভাবে গুলি চালিয়ে আরও ৩৪ জন সাধারণ ও নিরপরাধ মানুষকে রাজপথে হত্যা করা হয়েছিল। আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুক্তিকামী জনগণের রুদ্ধ ও স্তব্ধ করতে প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার মানুষকে আসামি করে অসংখ্য মিথ্যা ও সম্পূর্ণ হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এই ভুয়া মামলার জালে আটকে পড়ে বহু নির্দোষ মানুষকে দীর্ঘ ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বিনাদোষে অত্যন্ত কষ্টের জঘন্য জেলজীবন যাপন করতে হয়েছে।
বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান ও আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচার
শিবির সভাপতি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়ে বলেন, শাপলা চত্বরের মর্মান্তিক ঘটনার একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ শ্বেতপত্র প্রকাশ করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। প্রকৃত মরদেহের সঠিক সংখ্যা এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের প্রকৃত তালিকা জাতির সামনে উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি। গণহত্যার অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং এই সুপরিকল্পিত গণহত্যার পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সুব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এই ধরনের নির্মম ঘটনার যেন ভবিষ্যতে কখনো পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তা নিশ্চিত করাই দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #শাপলা_চত্বর