আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নিজের এবং তার পরিবারের সামগ্রিক ব্যাংক হিসাবের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন। বাংলামোটরে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার মোট আয় ছিল ৮৫ লাখ ৮২ হাজার টাকা, যার মধ্যে ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ ও আয়ের উৎস
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ তার নিজের দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, সোনালী ব্যাংকের সেভিংস অ্যাকাউন্টে বর্তমানে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা জমা রয়েছে। ১৬ মাস উপদেষ্টা পদে দায়িত্ব পালনের সময়কার সমস্ত বেতন-ভাতা, পাঁচটি সরকারি দূরদেশ সফরের টিএ-ডিএ এবং অন্যান্য সরকারি ভাতাদি এই অ্যাকাউন্টে জমা হয়। সরকারে যোগদানের পূর্বে তার সেলারি অ্যাকাউন্টে ৫০ হাজার টাকা জমা ছিল। সব মিলিয়ে জমা হওয়া ৮৫ লাখ ৮২ হাজার টাকার মধ্যে বেশিরভাগ টাকাই উত্তোলন করা হয়। ফলে বর্তমানে তার অ্যাকাউন্টে অবশিষ্ট রয়েছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা।
পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব ও ঋণের তথ্য
নিজের হিসাবের পাশাপাশি তিনি পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, তার বাবার পাঁচটি অ্যাকাউন্টে বর্তমানে মোট ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১িল টাকা জমা রয়েছে। তবে তার বাবার নামে ১০ লাখ টাকার একটি সার্ভিস লোন রয়েছে, যার মধ্যে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা এখনো পরিশোধ করা বাকি। ফলে সঞ্চিত অর্থ লোনের সাথে সমন্বয় করার পরেও এখনো ৮২ হাজার ৪৫ টাকা ঋণ থেকে যায়। এছাড়া তার মায়ের ব্যাংকে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা এবং স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে বর্তমানে জমা রয়েছে মাত্র ৬১৩ টাকা।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা
ব্যাংক হিসাব প্রকাশের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, “যাঁরা বিগত দিনে নানা কারণে মনঃক্ষুণ্ন হয়েছেন এবং আওয়ামী লীগের যারা এখনো দেশে অবস্থান করছেন, তাঁরাই মূলতঃ এসব অসত্য অভিযোগ তুলছেন।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, দায়িত্ব ছাড়ার পরপরই এসব কথা উঠেনি, কিন্তু সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের গুঞ্জন শুরু হওয়ার পরেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব তলবের বিষয়টিকে আলাদাভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের চেষ্টা করছিল একটি বিশেষ গোষ্ঠী। ব্যাংক হিসাব তলব করে জনমনে ধোঁয়াশা ও রহস্য সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছিল বলেই তিনি নিজ উদ্যোগে অগ্রিম সমস্ত হিসাব পরিষ্কার করে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি দেশের ৫৬টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠিয়ে তার ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছিল আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #অর্থনীতি #সংবাদ