চিকিৎসাহীনতায় খালেদা জিয়ার মৃত্যু: তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত এক অতীব শোকাবহ ও ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে জনসমক্ষে কথা বলতে গিয়ে বিএনপি-র স্থায়ী কমিটির অত্যন্ত প্রভাবশালী ও জ্যেষ্ঠ সদস্য নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ তুলে ধরে বলেছেন যে, দেশের তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সময়মতো এবং প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে না দিয়ে নির্মমভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। অত্যন্ত আবেগপূর্ণ ও দৃঢ় ভাষায় তিনি বলেন, রাজপথের আপসহীন এই অপরাজেয় নেত্রীর করুণ ও অকাল মৃত্যুর দায় থেকে তৎকালীন ফ্যাসিবাদী হাসিনা ও তার স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা কখনোই ইতিহাস বা দেশের জনগণের কাছে মুক্তি পেতে পারে না। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার ঠিক পূর্বে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, অপরিসীম আত্মত্যাগ এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে অবিস্মরণীয় অবদান তুলে ধরে প্রদত্ত লিখিত বক্তব্য পাঠকালে তিনি এই অত্যন্ত গুরুত্বাবহ বক্তব্য প্রদান করেন।

কারাগারে অমানবিক বন্দিদশা, চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও স্বাস্থ্যের অবনতি

নজরুল ইসলাম খান কারাজীবনের করুণ চিত্র তুলে ধরে বলেন, তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, গোপন ষড়যন্ত্র এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা দুই বছরেরও বেশি সময় চরম নির্জন ও স্যাঁতসেঁতে কারাগারে অমানবিক বন্দিজীবন অতিবাহিত করতে হয়েছিল বেগম জিয়াকে। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, সমগ্র বাংলাদেশ ও এ দেশের সর্বস্তরের সচেতন জনগণ এই সত্যের প্রত্যক্ষ সাক্ষী যে, বেগম খালেদা জিয়া সম্পূর্ণ সুস্থ শরীরে নিজের পায়ে হেঁটে কারাগারে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু সেই নির্মম নির্জন বন্দিশালা থেকে যখন তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়, ততদিনে উপযুক্ত ও মানবিক চিকিৎসার অভাবে তিনি মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারাত্মকভাবে পঙ্গুত্বের দিকে ধাবিত হয়েছিলেন।

তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে আরও যোগ করেন যে, দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ থাকা সত্ত্বেও পরবর্তী চার বছরের গৃহবন্দি জীবনে তাকে বিদেশ নিয়ে উন্নত আধুনিক ও সমন্বিত চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। এই দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় অবহেলা, প্রশাসনিক বাধা ও স্বৈরাচারী মানসিকতার কারণে তার শারীরিক ব্যাধি ও অসুস্থতা ক্রমশ অনিয়ন্ত্রণযোগ্য ও জটিল রূপ ধারণ করে। যার ফলশ্রুতিতে দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে অপরাজেয় হিসেবে পরিচিত এই মহান রাজনৈতিক নেত্রীকে শেষ পর্যন্ত করুণ মৃত্যুর কাছে হার মানতে হলো। এই অকাল ও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর পূর্ণ দায় তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীকে গ্রহণ করতেই হবে বলে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।

জাতীয় উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং ইমার্জিং টাইগার হিসেবে আত্মপ্রকাশ

খালেদা জিয়ার যুগান্তকারী শাসনকালের স্মৃতিচারণ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকাকালে দেশের সাধারণ জনগণের সার্বিক সামাজিক নিরাপত্তা ও আর্থিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে একের পর এক অত্যন্ত দূরদর্শী ও কালজয়ী কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তার সুচিন্তিত পরিকল্পনা, সঠিক নেতৃত্ব এবং কঠোর তদারকির ফলেই বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি সম্ভাবনাময় ইমার্জিং টাইগার হিসেবে গৌরবময় আত্মপ্রকাশ ও পরিচিতি লাভে সক্ষম হয়েছিল।

পারিবারিক ঐতিহ্য, রাজনৈতিক উত্থান ও আপসহীন নেতৃত্ব

প্রদত্ত লিখিত বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম, পারিবারিক ঐতিহ্যগত মর্যাদা, মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার স্মৃতিকথা পরম শ্রদ্ধার সাথে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অত্যন্ত নির্মম ও হৃদয়বিদারক শাহাদাতবরণের পর তৎকালীন চরম রাজনৈতিক সংকটময় পরিস্থিতিতে রাজনীতিতে তার আগমন, রাজপথে গণআন্দোলনের নেতৃত্ব প্রদান, পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক জাতীয় নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ এবং দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #খালেদা_জিয়া #বিএনপি #সংবাদ