বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি কলকাতাভিত্তিক অনলাইন গণমাধ্যম ‘এই সময়’-এ প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারকে সম্পূর্ণ ভুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন। তিনি এই সাক্ষাৎকারকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এই দাবি তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফোনে একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় জানান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই তিনি এই সময়-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনটিকে সম্পূর্ণ কাল্পনিক বলে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তিনি কলকাতাভিত্তিক কোনো গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো সাক্ষাৎকার দেননি বা তাদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।
সাক্ষাৎকার নিয়ে মির্জা ফখরুলের বক্তব্য
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট করে বলেছেন যে, ‘এই সময়’ কর্তৃক প্রকাশিত সাক্ষাৎকারটি সম্পূর্ণ ভুয়া। তিনি অভিযোগ করেন যে, এই মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর রিপোর্টটি তৈরি করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হয়েছে। তার মতে, প্রতিবেদনে উদ্ধৃত করা ‘অযৌক্তিক’ মন্তব্য কোনো রাজনৈতিক নেতা করতে পারেন না। তিনি এটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে করা একটি কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার উদ্দেশ্য বিভ্রান্তি ছড়ানো। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে, তিনি কলকাতার ‘এই সময়’ বা অন্য কোনো কলকাতাভিত্তিক গণমাধ্যমকে কোনো সাক্ষাৎকার দেননি। এই ধরনের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এবং এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
নিউইয়র্কে হামলার নিন্দা
একই প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) বিমানবন্দরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। এই হামলার ঘটনায় তিনি আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন এবং তাদের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি সন্ত্রাসী দল। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই হামলার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের সহিংস চরিত্র এবং অন্যায়-অবিচার নিয়ে তাদের নির্লজ্জ মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তিনি দাবি করেন যে, এই ধরনের হামলা রাজনৈতিক সহনশীলতার অভাব এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, আখতার হোসেন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর জেএফকে বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা তাকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করে এবং তার ওপর হামলা চালায়। এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এই ধরনের ঘটনা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ব্যাহত করে।