দ্বিচারিতা পরবর্তী বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য হবে না: এনসিপি নেতার তীব্র সমালোচনা
কুমিল্লা টাউনহলে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, এক হাতে সুবিধাজনক ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের প্রতিশ্রুতির অন্তরালে অন্য হাতে নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও হিজাব খসিয়ে নেওয়ার নীতি বাংলাদেশ আর মেনে নেবে না। তিনি মন্তব্য করেন যে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে দেশের জনগণ সকল ধরনের ভণ্ডামি ও রাজনৈতিক দ্বিচারিতাকে প্রত্যাখ্যান করতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
নারী ক্ষমতায়নের বাস্তবতা ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র নীতি ও রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, বাহ্যিকভাবে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে নানা মনমুগ্ধকর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে দেশে নারী নির্যাতনের ঘটনা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বিষয়ে দেশের মূলধারার গণমাধ্যমের অকার্যকর ও পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকারও তিনি তীব্র নিন্দা জানান। হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ তোলেন যে, বিগত দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠিত টেলিভিশন চ্যানেল বিএনপি-র শীর্ষনেতা তারেক রহমানকে দেশের একজন স্বনামধন্য ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবে চিত্রায়িত করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। অথচ পরিবর্তিত সময়ের সুবিধা নিতে সেই একই গণমাধ্যমগুলো এখন আবার সেই দলের সঙ্গেই নতুন করে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলছে।
রাজনৈতিক স্বার্থে নিয়োজিত এই অসাধু গণমাধ্যমগুলোকে ‘দালাল মিডিয়া’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি অভিযোগ করেন যে, তারা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও প্রপাগান্ডামূলক কৌশলে জনগণের মতামত বিকৃত করছে। সাংবাদিক মহল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বরাতে তিনি দাবি করেন যে, সংবাদকক্ষে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ ও সত্য সংবাদ প্রকাশে অন্যায্যভাবে বাধা প্রদান করা হচ্ছে। এই কারণে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের আগামী বিপ্লব অনুষ্ঠিত হবে মূলত এই দুর্নীতিগ্রস্ত মিডিয়া কাঠামোর বিরুদ্ধে।
প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা
অনুষ্ঠানে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ববোধ স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জোর দাবি জানান যে, তারা যেন কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর অনুগত না হয়ে দেশের সকল সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখেন। তিনি বাংলাদেশ পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে একটি অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান, যাতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের ভঙ্গুর আস্থা পুনর্প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসন ও কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণার অঙ্গীকার
বক্তব্যে তিনি রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে বিরোধীদের অস্পষ্ট অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং পুরো শাসক ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এখন সময়ের দাবি। আঞ্চলিক বৈষম্যের উল্লেখ করে তিনি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন যে, তারা ক্ষমতায় এলে দীর্ঘদিনের অবহেলিত কুমিল্লা জেলাকে এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ বিভাগে উন্নীত করবেন। বৈষম্যহীন ও সাম্যভিত্তিক নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠাই তাদের প্রধান অঙ্গীকার।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #কুমিল্লা #নির্বাচন