আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে জামায়াতের ক্ষোভ: সরকারের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা
সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পাদিত আন্তর্জাতিক চুক্তিসমূহ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমির ডা. শফিকুর রহমান এক স্পষ্ট বার্তায় জানিয়েছেন যে, এসব চুক্তি সম্পাদনের পূর্বে তাদের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা বা পরামর্শ করা হয়নি। তিনি সরকারের এই একপেশে সিদ্ধান্তের চরম সমালোচনা করেন এবং দেশের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সব প্রধান রাজনৈতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ত করার গুরুত্ব জোর দিয়ে তুলে ধরেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াত আমিরের স্পষ্ট বার্তা
শুক্রবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পেজে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামী-র শীর্ষ নেতা স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকালে বিভিন্ন বৈদেশিক রাষ্ট্রের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। তবে অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক বিষয় হলো, এ ধরনের কোনো আন্তর্জাতিক বা জাতীয় স্পর্শকাতর চুক্তি নিয়ে তৎকালীন সরকার তাদের সঙ্গে কোনো প্রকার দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বা মতামত বিনিময় করেনি।
তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে তুলে ধরেন যে, তৎকালীন সময়ে দেশে নির্বাচিত সংসদ অনুপস্থিত থাকার কারণে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ ও আন্তর্জাতিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদনে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। তাদের দলের পক্ষ থেকে বারবার অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি জানানো হয়েছিল যে, সরকার যেভাবে অন্যান্য বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ জাতীয় ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ ও আলোচনা করেছে, ঠিক একইভাবে চুক্তি সম্পাদনের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব দলের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনা করা উচিত ছিল।
রাজনৈতিক সংলাপে অবহেলা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা
তবে জামায়াত আমিরের মতে, তৎকালীন সরকার তাদের সেই যৌক্তিক ও দায়িত্বশীল দাবিগুলোকে একেবারেই আমলে নেয়নি। ফলে চুক্তিগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বড় ধরনের সংশয় থেকে গেছে। ডা. শফিকুর রহমান আরও উল্লেখ করেছেন, “আমরা চাই রাষ্ট্রীয় যেকোনো বড় পদক্ষেপে জনগণের প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের প্রতিফলন ঘটুক।”
তিনি কঠোর ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, এই বিষয়টি নিয়ে তাদের রাজনৈতিক দল হিসেবে অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট, স্বচ্ছ এবং সুনির্দিষ্ট। এখানে কোনো ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি করার কিংবা বিভ্রান্তি ছড়ানোর ন্যূনতম কোনো সুযোগ নেই। তারা মনে করেন, ভবিষ্যৎ যেকোনো সরকারের উচিত হবে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বৈদেশিক চুক্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতকে যথাযথ প্রাধান্য দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, যাতে করে কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির কারণে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের ক্ষয়ক্ষতি না ঘটে।
জাতীয় ঐক্য, সার্বভৌমত্ব ও স্বচ্ছতার আহ্বান
তিনি আরও যোগ করেন, একটি দেশের সুশাসন ও গণতান্ত্রিক চর্চাকে সুদৃঢ় করতে হলে সব সময় আলোচনার পথ খোলা রাখা অপরিহার্য। সংসদের অনুপস্থিতিতে যাতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক নীতি একতরফাভাবে পরিবর্তিত না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত অগ্রাহ্য করে সিদ্ধান্ত নিলে তা শেষ পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যের জন্য চরম হুমকি হিসেবে দেখা দিতে পারে। তাই আগামী দিনে সব ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তি ও বৈদেশিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #জামায়াত #আন্তর্জাতিক_চুক্তি