তরুণদের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ ও প্রতিরক্ষা জোরদারের ইশতেহার

বনানীর এক অভিজাত হোটেলে ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এক যুগান্তকারী প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। তারা জানিয়েছে যে, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে দেশের ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৬ থেকে ১২ মাস মেয়াদি বাধ্যতামূলক বা স্বেচ্ছাসেবী সামরিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু করবে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত এই ইশতেহারে জাতীয় নিরাপত্তা ও কার্যকর প্রতিরক্ষাকে দেশের স্বাধীনতার প্রধান পূর্বশর্ত হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব এই ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেন।

জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি ও আধুনিক মিলিটারি ডকট্রিন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের ঘোষিত ইশতেহারে সামরিক খাত সংস্কারের লক্ষ্যে ৯টি নির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছে। বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থা, ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও যুগের আধুনিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে দেশের সব অংশীজনের সমন্বয়ে একটি সময়োপযোগী জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করা হবে। এছাড়া পূর্বের সামরিক ভিশন আধুনিকায়ন করে ২০৪০ সালের উপযোগী নতুন মিলিটারি ডকট্রিন তৈরির রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে।

সামরিক গবেষণা ও প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরশীলতা

দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে একটি সমন্বিত জাতীয় সামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হবে সশস্ত্র বাহিনীকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করা এবং কৌশলগত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে স্বাবলম্বী করা। ইশতেহারে উল্লেখ করা হয় যে, ২০৪০ সালের মধ্যে দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম নিজস্ব প্রযুক্তিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক সার্বভৌমত্ব সুদৃঢ় করার স্বার্থে বিদ্যমান গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আধুনিকীকরণ, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সংস্কার এবং সময়োপযোগী পুনঃবিন্যাস করা হবে।

বাজেট বৃদ্ধি ও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারকরণ

সামরিক সক্ষমতা সুদূরপ্রসারী করার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দকৃত বাজেট পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাজনৈতিক দলটি। জাতীয় জনসংখ্যার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সেনাসদস্যের সংখ্যা উত্তরোত্তর বাড়ানো হবে। এছাড়াও সীমান্তে মাদক চোরাচালানসহ সব ধরনের অনুপ্রবেশ ও অপরাধমূলক কাজ কঠোরভাবে প্রতিরোধের জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #প্রতিরক্ষা #নির্বাচন