ক্ষমতায় গেলে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার প্রতিশ্রুতি জামায়াতের

ঢাকার হোটেল শেরাটনে আয়োজিত এক অড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার উন্মোচন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যদি তারা আগামীতে সরকার গঠনে সক্ষম হয়, তবে প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ অপরাপর রাষ্ট্রের সাথে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে একটি সুদৃঢ় ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। একইসাথে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সার্বিক ভাবমূর্তি ও পাসপোর্টের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের রূপরেখা

প্রকাশিত নির্বাচনি ইশতেহারে জামায়াত তাদের সম্ভাব্য বৈদেশিক নীতির একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেছে। দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন যে, বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ ও এদেশের নাগরিকদের সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে। বিশেষ করে বিদেশি বিমানবন্দরে বাংলাদেশি নাগরিকদের মর্যাদা রক্ষা ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে পাসপোর্টের আধুনিকায়ন ও মর্যাদা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হবে। ইশতেহার ঘোষণাকালে তারা জানান, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই দেশের সার্বিক সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমতা ও নিরাপত্তার নীতি অনুসরণের কথা উল্লেখ করে দলটির প্রতিনিধিরা জানান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা তাদের অগ্রাধিকারের অংশ। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এক যৌথ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সংলাপ জোরদার করা হবে।

আঞ্চলিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক কূটনীতি

জামায়াতের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ পেলে তারা নিকটবর্তী ও পার্শ্ববর্তী দেশসমূহ যেমন ভারত, ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ এবং থাইল্যান্ড-এর সাথে “পারস্পরিক সম্মান, শ্রদ্ধা এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে সংহতি ও কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করবেন।” তারা আঞ্চলিক শান্তি বজায় রেখে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সংকল্পবদ্ধ।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও দলটির বিস্তৃত পরিকল্পনা রয়েছে। ইশতেহার অনুযায়ী, মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে ঐতিহাসিক এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে অগ্রাধিকারে রাখা হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান এবং কানাডা-র মতো উন্নত বিশ্বের অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর সাথে গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হবে। তাছাড়া বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও নতুন বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা মহাদেশ ও দক্ষিণ আমেরিকার অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য দ্বিগুণ করতে কার্যকর উদ্যোগ নেবে জামায়াতে ইসলামী।

রাজনৈতিক বার্তা ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি

দলটির এই নির্বাচনি রূপরেখা মূলত একটি আধুনিক, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী পররাষ্ট্রনীতির কথা তুলে ধরে। বিশ্বায়নের বর্তমান যুগে বিচ্ছিন্ন না থেকে কীভাবে সকল ব্লকের সাথে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা যায়, ইশতেহারে সেটির কৌশলগত দিক ফুটে উঠেছে। জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা বিশ্বাস করেন, এই পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়িত হলে দেশের বাণিজ্য খাত প্রসারিত হবে, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ নিশ্চিত হবে। ইশতেহার ঘোষণার এই অনুষ্ঠানটিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জামায়াতের বহির্বিশ্ব সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গির একটি বড় পরিবর্তন ও নতুন দিগন্তের সূচনা হিসেবে দেখছেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #ইশতেহার #পররাষ্ট্রনীতি #সংবাদ