রাজনীতি এখন ক্ষমতাকেন্দ্রিক, সংস্কারের ইচ্ছা নেই: এনসিপির অভিযোগ

ঢাকা-র ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক জাতীয় কনভেনশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ক্ষমতার বাহানা তুলে বিএনপি সরকার আর কোনো ধরনের রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ পরিচালনা করতে আগ্রহী নয়। তারা এখন মূল সংস্কার কার্যক্রম পিছিয়ে দিয়ে কেবলমাত্র ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশভাবে উপভোগ করার প্রক্রিয়ায় নিজেদের নিমগ্ন রাখতে চাইছে। নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে অর্পিত দায়িত্বকে জনগণের সেবার বদলে কেবল ক্ষমতার মানদণ্ডে মূল্যায়নের যেই পুরনো মানসিকতা, তা থেকে দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো এখনও বের হতে পারছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ঐকমত্য কমিশন ও ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর প্রকৃত ব্যাখ্যা

এনসিপি-র সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির এই আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখার সময় আখতার হোসেন স্পষ্ট করে জানান, বিএনপি সম্প্রতি বারবার ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতের প্রসঙ্গ তুলে রাজনীতিতে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যখন সর্বদলীয় ঐকমত্য কমিশনে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল, তখন এই ভিন্নমতের মূল অর্থ ছিল খুবই স্পষ্ট। এর অর্থ দাঁড়ায়, “আমরা মূল সিদ্ধান্তকে নীতিগতভাবে মেনে নিলাম, তবে যার যার বিশেষ ভিন্ন মতটি কেবল নথিতে উল্লেখ হিসেবে রাখা হলো।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, এখানে কোনো নির্দিষ্ট দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ কখনোই আলোচনার মূল বিষয় হতে পারে না। প্রকৃত বিষয় হলো, রাজনৈতিক দলসমূহ এবং ঐকমত্য কমিশন যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবে একমত ও সম্মত হয়েছিল, সেগুলো রাষ্ট্র সংস্কারের স্বার্থে দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা।

জনগণের রায় ও গণভোটের গুরুত্ব

দেশের সার্বিক শাসনব্যবস্থায় জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং স্প্যান্ডেড রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানিয়ে আখতার হোসেন বলেন, কোনো বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়ার পর সেখানে আর কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত মত বা দ্বিমত মুখ্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। গণভোটের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবেই গণ্য হওয়া উচিত।

বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যক্ষ রায় চলে আসার পর পূর্বে কে কী বলেছিল বা কী বক্তব্য দিয়েছিল, তা খুঁজে বের করতে যাওয়া সম্পূর্ণ অর্থহীন। এরূপ আচরণ করা মানে সরাসরি জনগণের রায়কে প্রত্যাখ্যান করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে অবমাননা করা। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে ক্ষমতাকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ত্যাগ করে রাষ্ট্র গঠনে সংস্কারের রাজনীতিতে ফিরে আসার তাগিদ দেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংস্কার #সংবাদ