খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন ঘিরে রাজধানী ঢাকায় জনতার ঢল
সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি-র দীর্ঘদিনে গঠিত প্রভাবশালী চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও শেষ বিদায় কার্যক্রমে অংশ নিতে রাজধানীর জিয়া উদ্যান এবং এর আশেপাশের সমগ্র এলাকায় দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত এবং অভূতপূর্ব জনসমাগম ঘটেছে। বুধবার সকাল থেকেই ঢাকা শহরের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রস্থল জিয়া উদ্যান ও সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ বিজয় সরণি মোড়ে সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সাধারণ সমর্থক এবং হাজারো উৎসুক মানুষের উপচেপড়া বিশাল ভিড় দেখা যায়। গোটা এলাকায় এক বিষাদময় আবহ তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কড়া নজরদারি
পরিস্থিতি বিশৃঙ্খলা মুক্ত রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা সার্বিকভাবে বজায় রাখার স্বার্থে উদ্যানের প্রবেশপথ, সড়ক ও অভ্যন্তরীণ প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি এর পাশাপাশি পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থায় মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে। পুরো রাজধানী জুড়ে বিশেষ নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। বিশাল এই জনসমাগমের ফলে আশপাশের প্রায় প্রতিটি প্রধান সড়কে যানবাহন অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে, যার প্রভাবে নগরজীবনে সৃষ্টি হয়েছে সাময়িক স্থবিরতা।
দীর্ঘ রোগভোগ, চিকিৎসা এবং শেষ জীবনের প্রেক্ষাপট
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের এই শীর্ষ অভিভাবক দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। প্রায় ৮০ বছর বয়সী তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে তীব্র হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থরাইটিস, লিভার সিরোসিস এবং কিডনির মারাত্মক জটিলতাসহ নানা রকম জটিল শারীরিক ব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন। তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে গত ২৩ নভেম্বর অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দেশের অন্যতম উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্র এভারকেয়ার হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি উক্ত হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের বিশেষ তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি
বেগম খালেদা জিয়ার এই চিরবিদায় বাংলাদেশ-এর রাজনীতিতে একটি সুদীর্ঘ, ঐতিহাসিক ও বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটালো। তার বিয়োগে পুরো রাজনৈতিক অঙ্গন এবং দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে নেমে এসেছে এক গভীর শোকের ছায়া। তিনি ছিলেন দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অন্যতম প্রতিকৃতি ও গণমানুষের প্রিয় নেত্রী। সারাদেশ থেকে আগত লাখো মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে দেশের জনগণের হৃদয়ে তার আসন কতটা সুদৃঢ় ও চিরস্থায়ী ছিল। উপস্থিত শোকাহত জনতা অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে তাদের প্রিয় নেত্রীর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার স্মৃতির প্রতি সর্বাত্মক সম্মান প্রদর্শন করেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #ঢাকা