খালেদা জিয়া গণমানুষের বাতিঘর ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক: যুবদল নেতৃবৃন্দ

চট্টগ্রাম নগরীতে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি, সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় এক বিশেষ দোয়া মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাজির দেউড়ির দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে এই রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

স্বৈরশাসন থেকে গণতন্ত্রের উত্তরণে অসামান্য অবদান

সংগঠনের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে বলেন, “দেশের এই বিশেষ চরম সংকটে এবং ক্লান্তিলগ্নে খালেদা জিয়ার কোনো বিকল্প নেই।” তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ-এর বুক থেকে ভয়াবহ স্বৈরশাসন দূর করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দীর্ঘ সংগ্রাম ও ঐতিহাসিক লড়াইয়ে খালেদা জিয়ার অবদান সর্বদা অনস্বীকার্য। তিনি দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার অনমনীয় প্রতীক এবং গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার অন্যতম বাতিঘর।

দীপ্তি আরও উল্লেখ করেন যে, সাবেক সামরিক শাসক এরশাদের দীর্ঘ পতন ঘটিয়ে তিনি এ দেশে পুনরায় সংসদীয় শাসনব্যবস্থা ও স্বৈরাচারমুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছিলেন। বিগত ১৭ বছর যাবৎ ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের ভয়াবহ দমন-পীড়ন ও অবিচারের বিরুদ্ধে অনমনীয় লড়াই চালিয়ে গেছেন। তিনি কখনো কোনো অপশক্তির কাছে নতিস্বীকার বা আপস করেননি, যার ফলে তিনি আজ দলীয় সীমানা ছাড়িয়ে সমগ্র দেশের জাতীয় ঐক্যের অদম্য প্রতীক হিসেবে সর্বমহলে স্বীকৃতি লাভ করেছেন।

নির্যাতন, কারাগার ও আপসহীন নেতৃত্ব

বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে খালেদা জিয়াকে বয়সের শেষভাগে এসে চরম নির্যাতন ও নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে। তাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় বছরের পর বছর কারাবন্দী রাখা হয়েছিল এবং ক্যান্টনমেন্টের ঐতিহাসিক বাড়ি থেকেও অন্যায়ভাবে বিতাড়িত করা হয়। চিকিৎসকরা বারবার সুচিকিৎসার জোর তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার তাকে যথাযথ ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বঞ্চিত করেছে।

যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, “খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন; তিনি বাংলাদেশের অধিকার, সার্বভৌমত্ব ও ন্যায়বিচারের অবিনাশী প্রতীক।” তিনি তিনবার রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব পালন করে দেশের অর্থনীতি, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও নারী সমাজের ক্ষমতায়নে যেসব বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তার অদম্য সাহস ও দূরদর্শী নেতৃত্ব আজও প্রতিটি দেশপ্রেমিক নেতাকর্মীর প্রেরণার উৎস।

দোয়া পরিচালনা ও নেতাকর্মীদের উপস্থিতি

আলোচনা সভা শেষে বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনায় নাসিমন ভবন জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা এহছানুল হক বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। দোয়া মাহফিলে নগর যুবদলের প্রবীণ ও নবীন শীর্ষ পর্যায়ের অগণিত নেতাকর্মী উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন।

#রাজনীতি #চট্টগ্রাম #বিএনপি #খালেদাজিয়া