জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ মন্তব্য করেছেন যে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কোনো একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে তাদের দলের প্রতীক নির্ধারণ করা হবে না। নির্বাচন কমিশন তাদের প্রতীকের তালিকায় ‘শাপলা কলি’ যুক্ত করার পর তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যটি করেন। তার এই বক্তব্য ইসির প্রতীক নির্ধারণ প্রক্রিয়া এবং আইনের সমতা প্রয়োগের বিষয়ে দলের অবস্থানকে স্পষ্ট করে তোলে।

খালেদ সাইফুল্লাহ তার ফেসবুক পোস্টে দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে, দলের প্রতীক নির্ধারণের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দলের সদস্যদের সম্মিলিত ইচ্ছা এবং দেশের প্রচলিত আইনের সীমার মধ্যে হতে হবে। তিনি আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের ওপর জোর দিয়ে বলেন যে, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। যদি আইনকে বেছে বেছে প্রয়োগ করা হয়, তবে তা তার মৌলিক চরিত্র হারায় এবং অন্যায়ের হাতিয়ারে পরিণত হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রতীক নির্ধারণে ইসির ভূমিকা

এনসিপি নেতা নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। তিনি জানান, তারা ইসিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে কোন আইন বা বিধির কারণে ‘শাপলা’ প্রতীকটিকে তাদের তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু ইসি এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তাদের প্রতীকের তালিকায় ‘শাপলা কলি’ অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে এনসিপির মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, কারণ তারা ‘শাপলা কলি’ নয়, বরং ‘শাপলা’ প্রতীকটিই তাদের দলের জন্য চেয়েছিল।

নির্বাচন কমিশনের কোনো এক অফিসারের ইচ্ছায় আমাদের প্রতীক নির্ধারণ হবে না। আমাদের প্রতীক নির্ধারিত হবে আমাদের দলের সদস্যদের ইচ্ছায় এবং আইনের সীমার মধ্যে। আইন সবার জন্য সমান হতে হবে। আইন যদি বেছে বেছে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে তা আর আইন থাকে না, অন্যায়ের হাতিয়ার হয়ে যায়।

খালেদ সাইফুল্লাহ আরও বলেন যে, ‘শাপলা’ প্রতীকটি কেন তালিকাভুক্ত করা গেল না, তার একটি স্পষ্ট উত্তর নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন নিজের ইচ্ছামতো নিয়ম তৈরি করে বা পরিবর্তন করে কাজ করতে পারে না। তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ সুনির্দিষ্ট আইন ও বিধির অধীনে হতে হবে।

জাতীয় প্রতীক সংরক্ষণের যুক্তি

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাতীয় প্রতীক সংরক্ষণের যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, যদি নির্বাচন কমিশন জাতীয় প্রতীক সংরক্ষণের যুক্তিতে ‘শাপলা’ প্রতীকটিকে তালিকাভুক্ত না করে, তবে একই যুক্তি দেশের অন্যান্য জাতীয় প্রতীকের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তিনি উদাহরণস্বরূপ ‘ধানের শীষ’, ‘তারকা’ বা ‘পাটপাতা’র মতো উপাদানগুলোর কথা উল্লেখ করেন, যা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

তিনি আরও যুক্তি দেন যে, যদি ইসি জাতীয় প্রতীক সংরক্ষণকে তাদের দায়িত্ব মনে না করে, তাহলে ‘শাপলা’ প্রতীক অন্তর্ভুক্ত করতে তাদের বাধা কোথায়? এই প্রশ্নটি ইসির প্রতীক নির্ধারণ নীতির ধারাবাহিকতা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। খালেদ সাইফুল্লাহ তার পোস্টে ‘শাপলা’ প্রতীকটির প্রতি তাদের দলের গভীর প্রত্যাশা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি আরও জানান যে, ‘শাপলা কলি’ প্রতীক বিষয়ে তারা দলের অভ্যন্তরে চিন্তা-ভাবনা করে তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন। এই পুরো বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতীক নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ইসির ক্ষমতা ও দায়িত্বের সীমানা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।