সারজিস আলমের হুঁশিয়ারি: জুলাই গণহত্যার বিচার ও দেশব্যাপী নতুন কর্মসূচির ঘোষণা

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, খুনিদের উপযুক্ত বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি বলেই নানা গর্ত থেকে আবারও উঁকি দেওয়ার দুঃসাহস দেখাচ্ছে ফ্যাসিবাদের দোসররা। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি-কে পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ঢাকা-র বাংলামোটরে অবস্থিত পার্টির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেন।

দেশব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা-২০২৬’ এবং কর্মসূচির বিস্তারিত পরিকল্পনা

সংবাদ সম্মেলনে সারজিস আলম গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের সীমান্ত সুরক্ষার জোরালো দাবিতে দেশব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা-২০২৬’ কর্মসূচি পালনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এনসিপি তাদের মাসব্যাপী ‘জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের ৬৪টি জেলার ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় এই পদযাত্রা পরিচালনা করবে। পদযাত্রার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৬ জুলাই গাজীপুর-এর কালীগঞ্জ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দলের আহ্বায়ক, সদস্যসচিব ও মুখ্য সংগঠকসহ শীর্ষপর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সশরীরে উপস্থিত থাকবেন। পরবর্তীতে ৭ জুলাই থেকে দক্ষিণাঞ্চলের পদযাত্রা শুরু হবে কক্সবাজার-এর উখিয়া অঞ্চল থেকে। উত্তরাঞ্চলের পদযাত্রা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের কর্মসূচিতে নেতৃত্ব প্রদান করবেন মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

গণঅভ্যুত্থানের চেতনা প্রচার ও স্থানীয় সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ

সারজিস আলম তার বক্তব্যে বলেন, “ঐতিহাসিক জুলাই কেবল একটি নির্দিষ্ট মাস নয়; এটি আত্মত্যাগ, গণআকাঙ্ক্ষা, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের চিরন্তন প্রতীক।” এই মাসব্যাপী কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে নতুন প্রজন্ম ও সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছানো, বীর শহীদদের মহান আত্মত্যাগ স্মরণ করা এবং দেশ গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা।

স্থানীয় নির্বাচন ও সাংগঠনিক ভিত্তি সুদৃঢ়করণ

আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে যেসব ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় এনসিপি প্রার্থী ঘোষণা করেছে, মূলত সেই এলাকাগুলোতেই এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে একদিকে যেমন জুলাইয়ের ঐতিহাসিক বার্তা মানুষের দ্বারে পৌঁছে দেওয়া হবে, অন্যদিকে প্রান্তিক অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলো সরাসরি শুনে তা জাতীয় পর্যায়ে নীতি নির্ধারণের জন্য তুলে ধরা হবে।

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ মনে করেন, একটি নবীন রাজনৈতিক দল হিসেবে এই পদযাত্রার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থীদের পরিচিতি বৃদ্ধি পাবে, সাংগঠনিক সক্ষমতা সরাসরি যাচাই করা যাবে এবং উপজেলা পর্যায়ে সংগঠনের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। এই কর্মসূচিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুতের চরম সংকট, কৃষকদের জন্য সার ও কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি এবং বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে স্থান পাবে।

রাজনৈতিক অধিকার ও আন্তর্জাতিক বিচারে জোর দাবি

সারজিস আলম অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রীয় সুবিধা কেবল একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে। কোনো দল যদি ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করে, তবে বাকি ৫০ শতাংশ মানুষেরও সমান রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি ১৫ জুলাই কুড়িগ্রাম-এ কৃষক সমাবেশ এবং ১৬ জুলাই রংপুর-এ শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। একই সাথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে স্বৈরাচার ও গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করার জোরালো দাবি জানান।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #জুলাই_পদযাত্রা