বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়; এটি হবে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমেই। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনকালে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এসব মন্তব্য করেন।

সমাধিতে শ্রদ্ধা ও উপস্থিতি

দীর্ঘ ১৭ বছর কারাভোগের পর মুক্ত হয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে যান। এ সময় নজরুল ইসলাম খানসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং বাবা‌রের মুক্তি নিয়ে মন্তব্য করেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, লুৎফুজ্জামান বাবর আমাদের সহকর্মী। তিনি ১৭ বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। তিনি নিরপরাধ প্রমাণিত হয়ে মুক্ত হয়েছেন এবং সে সময় মহান সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া আদায় করেছেন। নজরুল দাবি করেন, বাবরকে মিথ্যা মামলায়, অন্যায়ভাবে ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কারাগারে রাখা হয়েছিল।

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার কৌশল নিয়ে বক্তব্য

নজরুল ইসলাম খান স্পষ্ট করে বলেন যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে না; এতে সমাধান আসবে না, বরং জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি সবার কাছে এই দিকটি পরিষ্কার করেন।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যেন নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার না হয় সেজন্য গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই বলে দলের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এই বক্তব্যে তিনি সাধারণ জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

স্বৈরাচার, আন্দোলন ও ইতিহাস সম্পর্কিত মন্তব্য

নজরুল ইসলাম খান রাজনীতির ইতিহাস ও আন্দোলন সম্পর্কে বলেন, বিএনপি ১৬ বছর ধরে স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে অবিরাম লড়াই করেছে। তিনি বলেন, এ লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তাদের আন্দোলন একটি পর্যায় অতিক্রম করে এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটে।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের আশায় মুক্তিযুদ্ধ চালিয়েছিলাম এবং লাখো মানুষ জীবন দিয়েছেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পর দায়িত্বে যারা ছিলেন তারা কয়েক বছরের মধ্যে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেন। নজরুলের বক্তব্য অনুযায়ী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই একদলীয় শাসনের কবরের ওপর বহুদলীয় বাগান গড়েছিলেন।

প্রধান বক্তৃতা ও পর্যবেক্ষণে তিনি রাজনৈতিক সংহতি, স্বাধীনতার ইতিহাসের পুনর্মূল্যায়ন এবং জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্ব বারবার তুলে ধরেন। উপস্থিত নেতারা ও পরিবারের ঐ সদস্যরা শ্রদ্ধা প্রদর্শন শেষে সেখান থেকে চলে যান।

সমাবেশ ও সমাধি দর্শনের এই অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উল্লেখিত বক্তব্যগুলো প্রচার করে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেন।