গণভোটের রায় অমান্য করে বিএনপি স্বৈরাচারের পথে: খেলাফত মজলিসের তীব্র সমালোচনা
পুরানা পল্টনে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ ও নিয়মিত মাসিক বৈঠকে আমিরে মজলিস মাওলানা মামুনুল হক দেশের বর্তমান বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বহুল আলোচিত সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে অত্যন্ত কড়া বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তিনি অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে মন্তব্য করেন যে, গণভোটের মাধ্যমে অর্জিত স্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট ও সর্বজনীন রায়কে সম্পূর্ণ অমান্য করে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি আজ এক নতুন এবং অত্যন্ত ভয়ংকর স্বৈরাচারী শাসনের পথে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটে জনগণের সুস্পষ্ট মতামতের অবমাননা
পুরানা পল্টনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “যে বিতর্কিত সংবিধানের দোহাই দিয়ে সাবেক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দীর্ঘ দিন অবৈধভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার চেষ্টা চালিয়েছিলেন, এ দেশের সচেতন জনগণ একটি গণভোটের মাধ্যমে সেই সংবিধানের সুনির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও চূড়ান্ত রায় প্রদান করেছিল।” কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, রাজনৈতিক দল বিএনপি জনগণের সেই সুস্পষ্ট রায় অনুযায়ী বিদ্যমান সংবিধান আমূল সংস্কার করতে একেবারেই রাজি নয়। বরং তারা কৌশলে এতে কিছু সামান্য সংশোধনী এনে ভবিষ্যতে নিজেদের স্বার্থে আরও বেশি ভয়ংকর রূপ ধারণ করে এক নজিরবিহীন স্বৈরাচারী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চাচ্ছে।
তিনি অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও যুক্ত করেন যে, কেবল সংসদে সম্ভাব্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার বাহুবল ও দলীয় প্রভাব দেখিয়ে বিএনপি আজ গণভোটে প্রকাশিত সাধারণ জনগণের সুনির্দিষ্ট রায়কে অগ্রাহ্য করছে। আধুনিক পৃথিবীর কোনো সভ্য, প্রগতিশীল কিংবা গণতান্ত্রিক দেশে কোনো প্রভাবশালী দল বা সরকার নিজ দেশের সার্বভৌম নাগরিকদের সঙ্গে এরকম ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ প্রদর্শন করেছে—এমন কোনো ঐতিহাসিক নজির আমাদের জানা নেই।
অধ্যাদেশ বাতিল, দ্রুত পরিবর্তন এবং নতুন রাজনৈতিক সংকট
বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনকালে বিভিন্ন সময়ে দেশের স্বার্থে জারি করা অসংখ্য অধ্যাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে খেলাফত মজলিসের আমির স্পষ্ট করেন যে, সে সময়ে ওইসব প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশ জারির প্রক্রিয়ায় বিএনপি কোনো রূপ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ বিরোধিতা করেনি। এমনকি বহু ক্ষেত্রে তারা সরকারি পদক্ষেপসমূহকে সানন্দে স্বাগত জানিয়েছিল এবং বেশ কিছু অধ্যাদেশ তো খোদ তাদের নিজস্ব জোরালো রাজনৈতিক দাবির প্রেক্ষিতেই রাষ্ট্র কর্তৃক জারি করা হয়েছিল।
অথচ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এসে তারা সেই সব গণমুখী অধ্যাদেশ ও নিয়মকানুন বাতিল এবং ইচ্ছেমতো সংশোধন করতে শুরু করেছে। এই ধরনের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিএনপি মূলত দেশের গণভোটের রায়কে চরমভাবে অবমূল্যায়ন ও অমান্য করছে, যা অদূর ভবিষ্যতে গোটা দেশের শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য এক অত্যন্ত ভীতিপ্রদ ও তীব্র সংকটের সূচনা করবে।
সংস্কৃতি নীতি, জাতীয় তাহজিব-তামাদ্দুন এবং ইসলামী মূল্যবোধ
উক্ত বিশেষ নির্বাহী বৈঠকে উপস্থিত সংগঠনের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ ও প্রবীণ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ সাম্প্রতিক সময়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও দায়িত্বশীলদের বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্য ও সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান। নেতৃবৃন্দ কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, কোনো ধরনের বৈদেশিক বা ব্রাহ্মণ্যবাদী আধিপত্যকে তোষণ করতে গিয়ে যদি দেশের আলেম-ওলামা, মুসলমান ও সংখ্যাগরিষ্ঠ জনমানুষের আবহমান ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং তাহজিব-তামাদ্দুন বিরোধী কার্যক্রম চালানো হয়, তবে তা বর্তমান রাষ্ট্রযন্ত্র ও সরকারকে সরাসরি দেশের সর্বস্তরের তৌহিদী জনমানুষের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেবে।
উক্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমেদ, সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করীম জালালী, মুফতি সাঈদ নূর, মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা আব্দুল আজীজ, মুফতি শরাফত হোসাইন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী এবং মাওলানা শরীফ সাইদুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #খেলাফত_মজলিস