গুমবিরোধী শক্তিশালী আইন ও শাসন ব্যবস্থার দাবি
নয়াপল্টনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপি-র জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের জনগণ চায় গুমসংক্রান্ত বিদ্যমান আইনের ফাঁকফোকর ও ঘাটতিগুলো দ্রুত পূরণ করে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও কার্যকর আইন প্রণয়ন করা হোক। সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী ও তার চালকের গুম হওয়ার সন্ধানের দাবিতে আয়োজিত এই সভায় তিনি সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে গুম করার মতো অমানবিক ও নৃশংস পন্থা অবলম্বন করতে না পারে।
সুসংবাদের লক্ষণ ও সুশাসনের পূর্বশর্ত
রিজভী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি চরম দুঃসময় পার করে সুসময়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তবে এই সুসময় শুধু নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, বরং দেশের পুরো জাতির জন্য নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নানা চক্রান্ত বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে অন্তত বেআইনি গ্রেপ্তার, গুম এবং ক্রসফায়ারের আতঙ্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা সুসময়ের একটি ইতিবাচক লক্ষণ।
তিনি আরও বলেন, প্রকৃত সুসময় তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে যখন দেশে আইনের শাসন পুরোপুরি নিশ্চিত হবে এবং কোনো সাধারণ নাগরিক অন্যায়ের শিকার হলে আদালতে গিয়ে সঠিক বিচার পাবে। ক্ষমতার অপব্যবহার স্থায়ীভাবে বন্ধ করাকেও তিনি সুশাসনের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে চিহ্নিত করেন। জাতীয় সংসদে কার্যকর আইন পাশের মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে তিনি মতামত প্রকাশ করেন।
সরকারি উদ্যোগ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা
সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা স্মরণ করে রিজভী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দ্রুত ও প্রশংসনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মারস কার্ড বিতরণের মতো জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্তগুলো এরই বাস্তব উদাহরণ। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, কেবল লিখিত ঘোষণা নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমে এর চূড়ান্ত প্রয়োগ প্রমাণ করতে হবে।
বাজার ব্যবস্থা ও সিন্ডিকেট দমন
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রিজভী বলেন, বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, গ্যাস ও এলপিজির তীব্র সংকট এবং জ্বালানি তেলের নির্বিঘ্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারকে কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে হবে। অতীতে অনৈতিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমান সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যেন কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সাধারণ মানুষের পকেট কেটে বাজার বা জাতীয় সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে।
গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান ও বিচারের জোরালো দাবি
গুম হওয়া অসংখ্য নেতা-কর্মীর বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনেক রাজনৈতিক কর্মী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। অবিলম্বে তাদের সঠিক সন্ধান বের করতে হবে এবং যারা এসব নির্মম ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের অনতিবিলম্বে কঠোর আইনের আওতায় আনতে হবে।
যেসব কর্মকর্তা অতীতে গুমের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন, তারা এখনও সমাজে মুক্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি। সাধারণ মানুষ স্পষ্ট জানতে চায় কীভাবে, কোথায় এবং কী উদ্দেশ্যে এসব গুম সংঘটিত হয়েছিল। তাই সরকারকে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #আইন #বিএনপি