আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কঠোর সমালোচনা করেছে এবং প্রস্তাবিত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলের তীব্র বিরোধিতা জানিয়েছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে ১৪ দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করে, যেখানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার দাবি জানানো হয়।
আজ রোববার বিকেলে ঢাকার বাংলামোটর মোড়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ জাতীয় কমিটির উদ্যোগে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যার নেতৃত্ব দেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান। সমাবেশে হাসিনুর রহমান গুমের হোতাদের বিচার দাবি করেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সমালোচনা করে বলেন যে, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে দেশকে বিপদে ফেলছেন এবং এমনভাবে আইন তৈরি করছেন যাতে কেউ মামলাও করতে না পারে। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত আইন পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং নতুন আইনে বিদ্যমান জটিলতাগুলো পরিবর্তনের আহ্বান জানান। সমাবেশে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।
পদযাত্রা ও সংসদের সামনে সমাবেশ
সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর বাংলামোটর মোড় থেকে সংসদ ভবন অভিমুখে একটি পদযাত্রা শুরু হয়। এই পদযাত্রায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এবং ১১–দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা অংশ নেন। পদযাত্রাটি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদের সামনের ফুটপাতে গিয়ে শেষ হয়, যেখানে আরেকটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করেন যে, নতুন আইনে গুমের তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের হাতে দেওয়ার অর্থ হলো বর্তমান সরকারও ভবিষ্যতে গুম করার চেষ্টা করছে। তিনি গুম–খুন যাতে আর ফিরে না আসে, সেজন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বহাল রাখার দাবি জানান।
নতুন আইনের তীব্র সমালোচনা
জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশের চেয়ে বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত আইনকে দুর্বল আখ্যা দেন এবং বলেন যে, নতুন আইন দিয়ে গুম প্রতিরোধ সম্ভব নয়। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ অভিযোগ করেন যে, বর্তমান সরকারও পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ শাসনামলের মতো গুম–খুন করতে চায় এবং জুলাই সনদ অনুযায়ী গুম ও মানবাধিকার কমিশন গঠনের দাবি জানান। জামায়াতের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান এবং মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) মন্তব্য করেন যে, নতুন আইন গুম ও মানবাধিকার কমিশনকে বিকলাঙ্গ করে দেবে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আতিক মোজাহিদ বলেন, যে বাহিনী গুম করবে, তাকে দিয়ে তদন্ত সম্ভব নয়।
স্মারকলিপি পেশ ও স্পিকারের আশ্বাস
সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সংসদে গিয়ে ১৪ দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপিটি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পেশ করে। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সন্ধ্যা ছয়টার কিছু আগে সংসদ থেকে বেরিয়ে আসেন। সমাপনী বক্তব্যে হাসিনুর রহমান জানান যে, স্পিকারের সঙ্গে আলোচনায় তারা সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, স্পিকার তাদের সবগুলো বিষয় সুন্দরভাবে শুনেছেন, কোনো দ্বিমত করেননি এবং দাবিগুলোর বিষয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা করার আশ্বাস দিয়েছেন।