সাবেক মেয়রের বাসায় এমপি হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে বিক্ষোভ
চট্টগ্রাম নগরের সাবেক সিটি মেয়র এম মনজুর আলমের বাসভবনে গিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের তুমুল বিক্ষোভ ও অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ থাকার পর শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপে তিনি দুর্ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে সমর্থ হন।
ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ও বিএনপির বিক্ষোভ
মঙ্গলবার দুপুরে দুটি গাড়িতে চেপে হাসনাত আবদুল্লাহ সাবেক মেয়রের বাসভবনে পৌঁছালে মুহূর্তের মধ্যেই তার আগমনের বার্তাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এই খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক সেখানে দ্রুত জড়ো হতে থাকেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে বাসভবনের মূল ফটক সম্পূর্ণ ঘেরাও করে ফেলে একযোগে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেছেন যে, হঠাৎ করে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগমে সেখানে এক অভূতপূর্ব থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়।
অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা হাসনাত আবদুল্লাহকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন ধরনের তীক্ষ্ণ প্রশ্ন তুলতে থাকেন। তারা সরাসরি জানতে চান, “স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে কেন তিনি বিশেষ বৈঠক করতে এসেছেন এবং এই ধরনের ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার মূল উদ্দেশ্যই বা কী?” একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় তার উপস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে স্লোগান দেয়া হয়। পরিস্থিতি ক্রমাগত উত্তপ্ত হতে থাকলে স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়। পরবর্তীতে তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন এবং পুলিশের নিরাপত্তায় স্থান ত্যাগ করেন।
মনজুর আলমের রাজনৈতিক পটভূমি
উল্লেখ্য যে, এম মনজুর আলম চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের একজন বিশিষ্ট সাবেক মেয়র। তার রাজনৈতিক জীবন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় এবং তিনি বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—দুই বড় দলের রাজনীতির সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন। ২০১০ সালের মর্যাদাপূর্ণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাকে শাসকদলের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে।
ঘটনার বেশ কিছু সময় পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও পুরো এলাকায় এখনো এক ধরনের আলোচনার ঝড় বইছে। স্থানীয় সাধারণ জনগণ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে যে বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত নজরদারি বহাল রাখা হয়েছে।
#রাজনীতি #চট্টগ্রাম #সংবাদ #বিক্ষোভ