নির্বাচনি প্রচারণায় চট্টগ্রামে তারেক রহমান: দীর্ঘ ২০ বছর পর মহাসমাবেশে ভাষণ দেবেন
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিতে গুলশান-এর বাসভবন থেকে চট্টগ্রাম-এর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তিনি রাজধানী ঢাকা-র হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বন্দরনগরীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
পলোগ্রাউন্ড মাঠের ঐতিহাসিক মহাসমাবেশ
চট্টগ্রাম পৌঁছানোর পর দিন রোববার সকালে তিনি পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় পর এটিই হবে বন্দরনগরীতে তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক জনসভা। আয়োজক কমিটির নেতারা আশা করছেন, এই মহাসমাবেশে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে। পুরো কর্মসূচি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, শনিবার রাতে চট্টগ্রাম পৌঁছে তিনি স্থানীয় একটি হোটেলে রাত যাপন করবেন। এরপর রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় জনসভায় ভাষণ দেওয়ার পর তিনি মধ্যাহ্নে নগরী ত্যাগ করবেন।
পথসভা ও ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচি
চট্টগ্রাম সফর শেষ করে ঢাকা ফেরার পথে বিএনপি প্রধান একাধিক জেলায় বিভিন্ন পথসভা ও জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। তিনি বিকেলে ফেনী-র পাইলট স্কুল মাঠে এক জনসভায় অংশ নেবেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৫টায় কুমিল্লা-র চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠে এবং সন্ধ্যা ৭টায় সুয়াগাজীর ডিগবাজির মাঠে পর্যায়ক্রমে আরও দুটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।
একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দাউদকান্দি-র কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত অন্য একটি জনসভায় তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন। সর্বশেষে, রাজধানীতে প্রবেশের সময় রাত সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ-এর কাঁচপুর বালুর মাঠে শেষ পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। গভীর রাতে তিনি নিজ বাসভবনে পৌঁছাবেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা
তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন। সেই সময় তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্থান-পতন ও বিদেশের মাটিতে অবস্থান শেষে চলতি বছরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি-র চেয়ারম্যান হিসেবে নতুন দায়িত্ব নেন।
দলটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রবীণ নেতারা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই সফর কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক ভ্রমণ নয়, বরং “দলের প্রচার কার্যক্রমে নতুন মাত্রা এবং দেশের সার্বিক রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।” এই সফরের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #বিএনপি #চট্টগ্রাম