চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান: মির্জা আব্বাসের বক্তব্য
কাকরাইলে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় বিএনপি-র স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন যে, সমাজ থেকে চাঁদাবাজি পুরোপুরি নির্মূল করতে হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি মন্তব্য করেন যে, কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর নির্ভর করে এই সামাজিক ব্যাধি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা সম্ভব নয়, বরং জনগণের প্রত্যক্ষ প্রতিরোধ ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
চাঁদাবাজি ও বর্তমান পরিস্থিতি
তিনি জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে একটি বিশেষ হটলাইন চালু করার মাধ্যমে প্রায় দুই মাস সফলভাবে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছিল। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, উক্ত হটলাইন সেবাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তি যৌথভাবে পুনরায় এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তিনি আরও বলেন, “তাদের এই অপতৎপরতা রুখতে হলে কেবল সরকারি আদেশই যথেষ্ট নয়, সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় শক্তিশালী সামাজিক দুর্গ গড়ে তুলতে হবে।”
নির্বাচনী রাজনীতি, মাদকের বিস্তার ও ঐতিহাসিক চেতনা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে নিজের স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করে এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, তিনি কোনো কৃত্রিম প্রতিশ্রুতির রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। জনগণের যা প্রকৃত প্রয়োজন, তিনি ঠিক সেটাই করবেন। এর বাইরে তিনি অপ্রয়োজনীয় কোনো আশ্বাসের রাজনীতি করতে চান না।
মাদক সমস্যা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
দেশের বর্তমান মাদক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা আব্বাস বলেন, মাদক এখন সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে এক মহামারি বা মারাত্মক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, যারা এই মাদক কারবারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানকে একই সূত্রে গাঁথার তীব্র বিরোধিতা করেন এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি বলেন, “একাত্তর এবং চব্বিশ দুটোই আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অত্যন্ত গৌরবময় এবং আলাদা দুটি মহান অর্জন। দুটিই দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয়, কিন্তু একটির সঙ্গে অন্যটিকে মিলিয়ে ফেলা কিংবা তুলনা করা মোটেই সমীচীন নয়।”
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি আবেগপ্লাুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “আমি আজ আমার জীবনের একদম শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি। এখন আর আমার নতুন করে কিছুই চাওয়ার বা পাওয়ার নেই, বরং সমাজকে দেওয়ার অনেক কিছু আছে। আমি আমার জীবনের বাকি অবশিষ্ট সময়টুকু সাধারণ মানুষের কল্যাণে এবং নিঃস্বার্থ সেবায় পুরোপুরি উৎসর্গ করতে চাই।”
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #বিএনপি