রাজধানীর ডেমরা থানা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম রেজা চৌধুরী সেলিমের বাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ছাত্রদল নেতা মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে আটজন জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদল নেতা মাসুদ রানাসহ দুজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, গত ২৮ আগস্ট (শুক্রবার) ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে রাজধানীর ডেমরার সারুলিয়া এলাকায় বিএনপি নেতা এস এম রেজা চৌধুরীর বাসার সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, চারটি মোটরসাইকেলে আটজন হামলাকারী আসে। প্রথম মোটরসাইকেলে আসা দুজন ব্যক্তির মধ্যে একজন কাঁধে থাকা ক্রিকেট ব্যাটের প্যাকেট থেকে একনলা শুটারগান বের করেন। অন্যজন কোমর থেকে পিস্তল বের করে প্রথমে নিচের দিকে একটি গুলি ছোড়েন, এরপর বাড়িটি লক্ষ্য করে আরও একটি গুলি করেন। পরবর্তীতে শুটারগান বের করা ব্যক্তি তার হাত থেকে পিস্তল নিয়ে বাড়ির দিকে লক্ষ্য করে আরও দুটি গুলি ছোড়েন এবং উচ্চস্বরে কিছু কথা বলেন। এরপর হামলাকারীরা সবাই মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এই হামলায় ব্যবহৃত দুটি পিস্তল, একটি একনলা শুটারগান এবং আটটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গুলিবর্ষণের এই ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার পর বিএনপি নেতা রেজা চৌধুরী বাদী হয়ে ডেমরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়া এবং স্থানীয় চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে বিএনপি নেতার বাসায় এই গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকা থেকে অস্ত্রসহ মাসুদ রানা ও তার সহযোগী তরিকুল ইসলাম (তাপস) কে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ এসব তথ্য পেয়েছে বলে সূত্রটি উল্লেখ করেছে।
ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাইফুর রহমান মির্জা জানান, চারটি মোটরসাইকেলে করে আটজন ওই বাসায় হামলা চালিয়েছিল। তাদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডেমরা থানায় দায়ের করা মামলায় রেজা চৌধুরী অভিযোগ করেছেন যে, তার এলাকায় কিছু ব্যক্তি অনলাইনে মাদক কেনাবেচা করে আসছিল। তিনি এই মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় তার বাড়িতে গুলি করা হয়েছে। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন চিৎকার করলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায় বলে তিনি মামলায় উল্লেখ করেন।
বিএনপি নেতা এস এম রেজা চৌধুরী সেলিম আরও জানান, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তার বাসায় গুলি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ছাত্রদল নেতা মাসুদ আওয়ামী লীগ আমলে যারা মাদক সিন্ডিকেট চালাতেন, তাদের সঙ্গে নিয়ে মাদকের কারবার নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন। রেজা চৌধুরী বলেন, তিনি বিভিন্ন সময়ে মাসুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাসুদ একবার তাকে এ বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করেছিলেন।
রেজা চৌধুরী একটি হুমকির কথা উল্লেখ করে বলেন,
‘মাসুদ একদিন আমাকে হুমকি দিয়ে বলে, কাকা কেউ তো মাদক নিয়ে কথা বলে না। তাহলে আপনি কেন মাদক নিয়ে এত কথা বলেন?’
তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, শুধুমাত্র মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ার কারণেই এই হামলা হয়নি। এলাকার ফুটপাত, টেম্পোস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এস এম রেজা চৌধুরী সেলিমের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির আরেকটি পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এসব দ্বন্দ্বের জেরেই তার বাসায় হামলা হয়েছে বলে সূত্রটি ইঙ্গিত দেয়। এই বিষয়ে রেজা চৌধুরী চাঁদাবাজির সঙ্গে তার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে অস্বীকার করেছেন।